শাবিতে 'ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফোরাম' এর আত্মপ্রকাশ
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০৫:১৫ PM

শাবিতে 'ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফোরাম' এর আত্মপ্রকাশ

ইমরান হোসেন রানা, শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৫ ০৩:০২:২১ PM

শাবিতে 'ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফোরাম' এর আত্মপ্রকাশ


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। 'ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফোরাম, শাবিপ্রবি' নামে আত্মপ্রকাশ করা এ সংগঠনটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউসিসি ভবনের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে লোগো উন্মোচন এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণার মাধ্যমে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের প্রভাবমুক্ত রাখার জন্য এ প্ল্যাটফর্মে কোনো শিক্ষককে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়নি। পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা চারজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে। তারা হলেন- পরিসংখ্যান বিভাগের ইফরাতুল হাসান রাহিম, অর্থনীতি বিভাগের হাসিব (২০১৭-১৮), পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মেহরাব সাদাত (২০১৮-১৯) এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সুলতানা আক্তার লুবনা।

উপদেষ্টা মেহরাব সাদাত বলেন, ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফোরাম একটি প্ল্যাটফর্ম। এখানে নানা মতের শিক্ষার্থীরা যুক্ত হয়েছেন, যারা গণতন্ত্র, পরমত সহিষ্ণুতা এবং ন্যায়সংগত আন্দোলনের প্রশ্নে একত্রে কাজ করবেন। একাত্তরের চেতনা, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ সব ন্যায্য আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বপ্ন ছিল একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, রাজনীতিকীকরণ ও শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তাই একটি বিকল্প গণতান্ত্রিক শক্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শক্তিশালী আওয়াজ তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

এ সময় তিনি প্ল্যাটফর্মটির ১৪টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।

ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ফোরাম, শাবিপ্রবি এর ১৪ দফা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

১. একাডেমিক হয়রানি বন্ধ, ভুল ফলাফল, অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা ইত্যাদি প্রতিরোধে প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

২. মৌলিক চাহিদা পূরণ,খাদ্য, আবাসন ও পরিবহন সংকটের টেকসই সমাধান।

৩. গণতান্ত্রিক চর্চা, "মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও অপতৎপরতা রোধ।"

৪. নিরাপদ ক্যাম্পাস, "যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং, র‍্যাগিংসহ সকল নিপীড়নের অবসান।"

৫. সংখ্যালঘু ও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা।

৬. মত ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা, "ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত।"

৭. পরিবেশ সুরক্ষা, "সবুজ ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গঠন।"

৮. জাতীয় ইস্যুতে সোচ্চারতা, "শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।"

৯. স্বচ্ছ প্রশাসন, "বাজেট ও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ।"

১০. দ্রুত সহায়তা ব্যবস্থা, "দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা ও সাপোর্ট টিম গঠন।"

১১. ধর্মীয় সম্প্রীতি, "সকল ধর্মাবলম্বীর জন্য পূর্ণ সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত।"

১২. সাংস্কৃতিক চর্চা, "শিক্ষার্থীদের মনন উন্নয়নে মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিসর নিশ্চিত।"

১৩. ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক উন্নয়ন, "হয়রানি রোধে যৌথভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।"

১৪. যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও আন্দোলন।"

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রথম আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করা হয়। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুস্তাকিম বিল্লাহ আহ্বায়ক এবং গণিত বিভাগের একই সেশনের এম কে সাজ্জাদ মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পান। এ ছাড়া আরও ৫০ জন শিক্ষার্থীকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়।

সভায় জানানো হয়, খুব শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হবে।

জৈন্তা বার্তা/আরআর