কোটি টাকার ফোয়ারাগুলো এখন ময়লার ভাগাড়, চুরি হয়ে গেছে মোটর ও যন্ত্রপাতি
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৪:২২ AM

কোটি টাকার ফোয়ারাগুলো এখন ময়লার ভাগাড়, চুরি হয়ে গেছে মোটর ও যন্ত্রপাতি

প্রকাশিত: ০৮/১১/২০২৫ ১১:৫৪:১৭ PM

কোটি টাকার ফোয়ারাগুলো  এখন ময়লার ভাগাড়, চুরি হয়ে গেছে মোটর ও যন্ত্রপাতি

ছবি: জৈন্তা বার্তা


মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত:

নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত ফোয়ারাগুলো এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খোয়া গেছে মোটর ও যন্ত্রপাতি। দেখে বুঝার উপায় নেই এগুলো ফোয়ারা না ঝোপ-ঝাড়। অযতেœ-অবহেলায় নগরীর ছয়টি ফোয়ারার এমন দৈন্যদশা দেখা দিয়েছে। সৌন্দর্যের প্রতীক এসব ফোয়ারায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফোয়ারায় পাশ দিয়ে হেঁটে চলাও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। নগর কতৃপক্ষ বলছে, নগরীর ছয়টি ফোয়ারাই এখন আচল। ফোয়ারাগুলো বিভিন্ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে তৈরি করা হয়েছিল। জনবলের অভাবে সেগুলো ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এখন নতুন করে আর ফোয়ারা তৈরির পরিকল্পনা নেই। তবে যেগুলো অচল সেগুলেকে সচল করতে অন্তত কোটি টাকার প্রয়োজন।


অন্যদিকে সচতেন নাগরিকরা বলছেন, কোনো রকমের পরিকল্পনা ছাড়াই এসব ফোয়ারাগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। সংশিষ্ট কতৃপক্ষ ফোয়ারা তৈরি করেই তাদের দায় সেরেছে। দেখভালের প্রয়োজন মনে করেছি। যে কারণে এগুলো কিছুদিন পরই অচল হয়ে গেছে।


জানা গেছে, ২০০৬ সালে প্রায় দুই কোটি নগরীর হুমায়ূন রশীদ চত্বর, কুমারপাড়া পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহ পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহ পুকুরের মধ্যখান, নাইওরপুল পয়েন্ট, বন্দরবাজার হকার্স পয়েন্ট ও ক্বিনব্রিজের নিচে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা স্থাপন করা হয়। ফোয়ারার চারপাশে বেষ্টনী দিয়ে লাইটিংয়েরও ব্যবস্থা রাখা হয়। পরবর্তীতে হকার্স পয়েন্টের ফোয়ারা বন্ধ করে সেখানে টাইম টাওয়ার নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন।


সরেজমিনে হুমায়ূন রশীদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ছোট বড় মিলিয়ে এখানে ৫টি ফোয়ারা রয়েছে। ঝোপ-ঝাড়ে ঘিরে আছে অচল এই ফোয়ারা। ভেঙে পড়েছে স্টিল বেষ্টনির একাংশ। মটর ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে। একই দশা কুমারপাড়া পয়েন্টের ফোয়ারার। ময়লা-আবর্জনায় ঠাসা এই দৃষ্টিনন্দন এই ফোয়ারা। লাইট, মটর যন্ত্রাংশ কিছুই অবশিষ্ট নেই, সব চুরি হয়ে গেছে। এ ছাড়া নগরীর বাকি ফোয়ারাগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একসময়ের নজরকাড়া ফোয়ারাগুলো এখন চরম অযতœ-অবহেলার নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, ২০০৬ সালে এক কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নগরীতে চারটি ফোয়ারা নির্মাণ করে জেলা পরিষদ। বাকি তিনটি ফোয়ারা নির্মাণে সিটি করপোরেশনের ব্যয় হয় আরও প্রায় কোটি টাকা। উদ্বোধনের পর জেলা পরিষদ তাদের চারটি ফোয়ারাও সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে।


নগরবাসী বলছেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্বহীনতায় জৌলুস হারিয়ে আবর্জনার ভাগাড় আর ঝোপ-ঝাড়ে পরিণত হয়েছে ফোয়ারাগুলো। কোনো নজরদারি না থাকায় ইতিমধ্যে ফোয়ারাগুলোর মোটর ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে।


পরিবেশকরর্মী আব্দুল করিম চৌধুরী কিম বলেন, এই ফোয়ারাগুলো আধুনিক মানসম্পন্ন ছিলনা। এছাড়া সিটি করপোরেশন বিগত দিনগুলোতে বিভিন্ন মোড়ে যেসব স্থাপনা করেছে সেগুলোর কোনো নান্দনিক সৌন্দর্যও নেই। আগামীতে এধরণের প্রকল্প নিতে সিটি করপোরেশনকে আরেকটু বুঝেশুনে নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।


তিনি বলেন, শুধ প্রকল্প নিলেই হবে না। এগুলোর দেখাশুনার দায়িতও¡ নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে।


এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. আলী আকবর জানান, ‘জনবলের অভাবে ফোয়ারাগুলো ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তানে যেসব ফোয়ারাগুলো অচল অবস্থায় পড়ে আছে, সেগুলো কীভাবে দ্রæত সচল করা যায় এ ব্যাপারে আমরা বসে পলিকল্পনা ঠিক করবো।’


তিনি আরও বলেন, ‘ফোয়ারাগুলোর মোটর, স্প্রীঙ্কেল ইত্যদি যন্ত্রাংশ নাও থাকতে পারে। যারা এক্সপার্ট আমারা তাদের সাথে যোগাযোগ করব। ফোয়ারাগুলো পুণরায় চালু করতে কত টাকার প্রয়োজন বা কি ধরণের যন্ত্রপাতি প্রয়োজন এক্সপার্টরা সে বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।’ 

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ