সিলেটে নভেম্বরের প্রথম ১০ দিনে সড়কে নি*হত ১১ জন
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৩২ AM

সিলেটে নভেম্বরের প্রথম ১০ দিনে সড়কে নি*হত ১১ জন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/১১/২০২৫ ০১:৪৯:৪৬ PM

সিলেটে নভেম্বরের প্রথম ১০ দিনে সড়কে নি*হত ১১ জন

প্রতীকী ছবি


সিলেটের সড়কে মৃত্যু যেন এখন নিয়মিত ঘটনা। এর পেছনে রয়েছে বেহাল সড়ক, ফিটনেসহীন গাড়ি আর ট্রাফিক আইনের মানায় উদাসীনতা।

চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম ১০ দিনেই সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন। আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সর্বশেষ জকিগঞ্জে ব্যাটারিচালিত টমটমের ধাক্কায় এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম রাইয়ান হোসেন (৮)। সে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুমিনপুর গ্রামের সুপারী ব্যবসায়ী আব্দুছ ছালাম ছলন মিয়ার তৃতীয় ছেলে এবং কুসুম কলি কিন্ডারগার্টেনের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ২টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ মেইন সড়কের ভরণ বাজার সংলগ্ন মুমিনপুর গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জৈন্তাপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মো. হারুন অর রশিদ (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার কলাগ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল সামাদের পুত্র। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে মো. হারুন অর রশিদ দরবস্ত বাজার থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে ওঠেন। সামনের ডান পাশে বসে তিনি হরিপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে জৈন্তাপুর থানার পাখিটেকি এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ি থেকে তিনি পড়ে যান তিনি। এতে তিনি মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত হলে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কদমতলী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুইজনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২৫ জন যাত্রী। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি যাত্রীবাহী এনা বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি রয়েল কোচ পরিবহন নামে অপর আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই দু’জন মারা যান। আহত হন ও অন্তত ২৫ জন। খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয়।

এর আগে সিলেটে একদিনে সড়কে ঝরেছে ৩ প্রাণ। তাদের মধ্যে দু’জন বাবা ও মেয়ে। আর আহত হয়েছেন ১০ জন। শনিবার (১ নভেম্বর) প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীরে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হবিগঞ্জগামী একটি বাস ও সিলেটগামী একটি প্রাইভেট কারের মধ্যে মুখোমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারটির চালক মো. হারুন মিয়া ও তার ১০ বছরের মেয়ে আনিছা বেগম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাদের বাড়ি ওসমানীনগরের খাদিমপুর গ্রামে।

কোম্পানীগঞ্জে শাহ আরেফিন টিলার পাথরবাহী ট্রাক্টরের চাপায় মো. জিয়াউল হক (৬৫) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি জামালপুরের মোবারক চেয়ারম্যানের ছেলে। এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের ভোলাগঞ্জ পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের শাহপরাণ থানাধীন খাদিমনগর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- জৈন্তাপুর থানার চিকনাগুল উমনপুর এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে মো. মুন্না (২০) ও শাহপরাণ (রহ.) থানার বাহুবল এলাকার তাজুল ইসলাম (৪০)।

জৈন্তা বার্তা/আরআর