ছবি:নিজস্ব
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ও উৎপাদন বাড়াতে রিলে পদ্ধতিতে বিনা চাষে সরিষা চাষ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসে জানা যায়,রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ হচ্ছে রোপা আমন ধান কাটার ১০-১৫ দিন আগে জমিতেই সরিষা বীজ ছিটিয়ে দেওয়া। এই পদ্ধতিতে দুটি প্রধান সুবিধা রয়েছে। জমিটি দুই ফসলি থেকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয় এবং এটি বিনা চাষে করা যায়, বিশেষ করে যেসব জমিতে আমন ধান কাটার পর চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না বা জল জমে থাকে বা কাদা কাদা ভাব থাকে, কিন্তু চাষের উপযোগী নয়,এসব জমিতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। ধানের খেতে সরিষার বীজ ছিটিয়ে জমি বা ধানের কোনো ক্ষতি না করে অতিরিক্ত একটি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করা যায়।
উপজেলার পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের ২ নং ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মন্তজুর আলম জানান, তার পরামর্শে ও সার্বিক সহযোগিতায় লামাকুটাপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন সহ ৫ জন মিলে রিলে পদ্ধতিতে বিনা চাষে ৫ বিঘা জমিতে সরিষার বীজ বপণ করেছেন। তিনি বলেন,ধান কাটার আগে যদি সরিষার বীজ ফুটে যায় এবং ধান কাটার সময় সরিষার চারা কৃষকের পায়ের নিচে পড়ে নষ্ট হয়, তবে শতক প্রতি আড়াইশো থেকে ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া সার ব্যবহারে সরিষার চারা পুনরায় জেগে উঠবে।এতে সরিষার বীজের বা চারার ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জীবন কৃষ্ণ রায় জানান,দেশের উত্তরবঙ্গে এই ধরনের পদ্ধতিতে সরিষা চাষ হয়ে থাকে।সিলেটে এই ধরনের চাষ খুবই কম। গোয়াইনঘাট উপজেলায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে এই ধরনের পদ্ধতিতে সরিষা চাষ করতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ফলন ভালো হলে আগামীতে ব্যাপক হারে কৃষকদের মাঝে এই পদ্ধতিতে সরিষার চাষ প্রচার ও প্রসার করা হবে।এ বছর উপজেলায় এই পদ্ধতিতে তিন হেক্টর জমি সরিষা চাষের আবাদের আওতায় রয়েছে আরো দুই হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হতে পারে বলে তিনি জানান।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




