ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের জিন্দাবাজারের সিতারা ম্যানশনের পোষা কুকুর ‘ভজো’কে ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করেছে মেহমান রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ-এমন অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রিয় কুকুর বজোর মৃত্যুতে শুক্রবার বিকেলে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানান ‘বজোর’ মানব বন্ধু ও প্রাণীপ্রেমীরা। তাদের বক্তব্য, ‘মানুষ এখন মানুষকে ঠকায়, কিন্তু কুকুর কখনো বেঈমানি করে না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সিতারা ম্যানশনের নিচে অবস্থান করত ‘ভজো’ নামের একটি পোষা কুকুর ও তার তিনটি ছানা। এলাকাবাসী ও দোকানপাটের কর্মচারীরা প্রতিদিন তাদের খাবার দিতেন। কয়েকদিন ধরে ভজো ও তার ছানাদের দেখা না মেলায় উদ্বিগ্ন হন স্থানীয়রা। পরে জানা যায়, মেহমান রেস্টুরেন্টের কর্মীরা কুকুরগুলোকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার পর লাশ গোপনে সরিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় ‘ভজোর’ মানব বন্ধু ও প্রাণপ্রেমী তরুণ-তরুণীরা সিতারা ম্যানশনের সামনে মানববন্ধন করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন,‘প্রাণীও এই সমাজের অংশ। মানুষকে ভালোবাসতে হলে প্রাণীকেও ভালোবাসতে হবে। যারা অকারণে একটি নিরীহ প্রাণকে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
মানববন্ধনকারীরা আরও জানান, তারা ইতোমধ্যে অনলাইন জিডি করেছেন এবং প্রয়োজনে মামলা করবেন।
তাদের দাবি-পুলিশ প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর যেন ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে।
আইনি প্রেক্ষাপট:
বাংলাদেশে ২০১৯ সালে প্রণীত প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী, অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো প্রাণীকে হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
ধর্মীয় ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ:
ইসলাম ধর্মসহ সব ধর্মেই প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি ও দয়া প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। অকারণে প্রাণী হত্যা নৈতিক ও মানবিক উভয় দিক থেকেই নিন্দনীয়। সমাজের অনেকেই মনে করছেন, বজোর মতো নিরীহ প্রাণীর মৃত্যু আমাদের মানবিকতার অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি।
মানববন্ধনে উপস্থিত সবাই ভজোর হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং শহরে পোষা প্রাণীর সুরক্ষায় প্রশাসনিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।তাদের একটাই দাবি-‘ভজোর জন্য ন্যায়বিচার চাই।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




