ছবি:নিজস্ব
শহরতলীর খাদিমপাড়া এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ ও বিক্রির অভিযোগে তিন জনকে আটক করেছে প্রশাসন। অভিযোগ, তারা সরকারি খাসজমি দখল করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ ও প্লট বিক্রি করছিল।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে উচ্ছেদ অভিযান শেষে এমন তথ্য জানান সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাদিমপাড়া এলাকার প্রায় ৩০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ ও প্লট বিক্রি করছিল একটি চক্র। এসব জমি খাদিমনগর চা-বাগানের তত্ত্বাবধানে থাকলেও সঠিকভাবে দেখভাল না হওয়ায় দখলকারীরা সুযোগ নেয়। তার বাগানে চা-শ্রমিকদের তাড়িয়ে জাল দলিল তৈরি করে জমি বিক্রি করছিল। সম্প্রতি স্থানীয় লোকজন আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর অভিযানে নেমে আমরা সত্যতা পাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতোমধ্যে মূল অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেছি। এবং এখানকার সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা এবং জমি কেনা-বেচার বিষয়ে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে, দীর্ঘদিন পরে হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রশাসনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, এই চক্রটি প্রভশালী। জমি কেনা-বেচার পাশাপাশি তারা এখানে মাদকের আড্ডা বসিয়েছিল। বখাটেরা এখানে আসা-যাওয়া করত। তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ আহমদ বলেন, ‘মাসুক নামে এক ব্যাক্তি এখানকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো। স্থানীয়রা তাকে ‘মাসুক পীর’ নামে চিনে। সে এই চক্রের মূল হোতা। এলাকাবাসী তাদের ভয়ে মুখ খুলতেন না। কিছু বললেই মিথ্যা মামলা দিত। সে ইতোমেধ্য এলাকার ৫০-৬০ জনকে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। শুনেছি এরই মধ্যে তাকে আটক করা হয়েছে।’
খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আতাউর রহমান শামীম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এখানে জমি বিক্রি করছিল। তারা ৩’শ টাকার স্ট্যাম্পে মালিকানা লিখে এই কাজ করছিল বলে আমরা জেনেছি। সহজ সরল মানুষদের টার্গেট করে মূলত তারা এই কাজটি করছিল।’
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




