জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : জনবলের অভা*বে মিলছে না সে*বা
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৮:১৬ PM

জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : জনবলের অভা*বে মিলছে না সে*বা

আব্দুল মুকিত, জকিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬/১১/২০২৫ ০১:০৯:২৮ AM

জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : জনবলের অভা*বে  মিলছে না সে*বা

ছবি:সংগৃহীত


সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও জনবল সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের চিকিৎসাসেবার দায়িত্ব এখন কার্যত মাত্র ৩ জন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেশিয়া) কাগজে-কলমে থাকলেও তাঁরা সবাই অন্য হাসপাতালে সংযুক্তিতে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন), ডেন্টাল সার্জন, সহকারী সার্জন (৭ পদের মধ্যে ৬টি শূন্য) এবং মেডিকেল অফিসার (হোমিওপ্যাথিক) পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। 

নার্সদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ২৫টি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের মধ্যে কাগজে ১৬ জন দেখালেও ৫ জন অননুমোদিত অনুপস্থিত, ১ জন সংযুক্তিতে অন্যত্র আছেন এবং মাত্র দশজন নিয়মিত কর্মরত। ৪টি মিডওয়াইফারি পদের মধ্যে ৩টি কাগজে থাকলেও ২ জন অনুপস্থিত ও ১ জন উচ্চশিক্ষায় অন্যত্র গেছেন। 

প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও রয়েছে অচলাবস্থা। ক্যাশিয়ারের পদ শূন্য, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ৩ জনের মধ্যে ১ জন ২০১৫ সাল থেকে সাময়িক বরখাস্ত, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ৭ পদের মধ্যে ৬টি শূন্য, ফার্মাসিস্ট ২ পদের মধ্যে ১টি শূন্য এবং ফার্মাসিস্ট (সাবসেন্টার) ২টি পদের সবকটিই শূন্য। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি) ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ সহকারীর সব পদই শূন্য। স্বাস্থ্য সহকারী ৫০ পদের মধ্যে ২০টি শূন্য। এমনকি কর্মরতদের মধ্যে একজন ২০১৫ সাল থেকে বরখাস্ত আছেন। ওয়ার্ড বয়, আয়া, বাবুর্চি, সহকারী বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ চতুর্থ শ্রেণির অধিকাংশ পদও শূন্য। বর্তমানে হাসপাতালের ১৯৮টি অনুমোদিত পদের মধ্যে কাগজে উপস্থিত ১২২ জন, কিন্তু বাস্তবে অন্তত ১৪ জন অনুপস্থিত বা সংযুক্তিতে অন্যত্র কর্মরত। 

প্রতিদিন হাসপাতালে ৬৫ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। মাসে গড়ে ৭৫ থেকে ৮০টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। অথচ এই সীমিত জনবল দিয়েই চলছে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। ওটি (অপারেশন থিয়েটার) থাকলেও সার্জন নেই, ল্যাব থাকলেও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। সঠিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। যদিও হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওষুধ সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। 

২০২২ সাল থেকে চক্ষু বিভাগ চালু ছিল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ২ জন প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে চলছিল এই বিভাগ। কিন্তু গত অক্টোবরের শেষ দিকে হঠাৎ ২ জনকেই বদলি করার কারণে প্রান্তিক এই জনপদের মানুষ চক্ষু চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম আব্দুল আহাদ বলেন, আমরা সীমিত জনবল নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে। শূন্য পদে জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। 

উল্লেখ্য, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে ৫০ শয্যার, কিন্তু জনবল অনুমোদন এখনও ৩১ শয্যার হিসাবেই চলছে। ফলে চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দুটোই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ