ছবি:সংগৃহীত
সিলেটে শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা থাকলেও নগরজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত দু’টি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সতর্কতা বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
শনিবার রাত আড়াইটার দিকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে পার্কিংয়ে থাকা একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়-দুটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচজন যুবক পার্কিং এলাকায় প্রবেশ করে এবং তারা আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই।
একই রাতে কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসেও আগুন দেয় দুর্বৃত্তচক্র। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে সতর্ক অবস্থানে থাকে পুলিশ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালানো হয় বিভিন্ন পয়েন্টে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। দুর্বৃত্তদের পরিচয় শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোববার শহরে জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অভিভাবকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন, কারণ একই দিন থেকে শুরু হয় স্কুলের বিভিন্ন পরীক্ষা। নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত আছি।’
১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের ঘোষিত ঢাকা লকডাউন ও পরবর্তী ১৬-১৭ নভেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ–শাটডাউন কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা দেখা গেলেও সিলেটে বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। তবে অগ্নিসংযোগের দুটি ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সচেতন মহলের মধ্যে।
সর্বোপরি, বড় কোনো সহিংসতা না ঘটলেও সিলেটে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




