ছবি:সংগৃহীত
সিলেট–০১ (নগর ও সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো গ্রাম। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, চা-শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন-এসবকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। প্রচারণার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার খাদিমনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও চা-বাগান এলাকায় গিয়ে তিনি জনসমর্থনে সাড়া পান।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ভোরে তিনি পৌঁছে যান সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের চা-বাগানসংলগ্ন এলাকাগুলোতে। চা-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের জীবনের নানা বঞ্চনার কথা শোনেন। চা–শ্রমিকদের আবেগঘন ভালোবাসায় তিনি অভিভূত হন।
মতবিনিময়ের এক পর্যায়ে খন্দকার মুক্তাদির বলেন- ‘গ্রামের উন্নয়ন ছাড়া রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বাস করেন, তাদের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন।’
তিনি আরও বলেন,‘চা-শ্রমিকরা এই সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুযোগ পেলে তাদের বেতন-রেশন বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বাসস্থান ও জমি বরাদ্দসহ চা–শিল্প সংশ্লিষ্ট সব খাতে টেকসই উন্নয়ন করবো।’
চা-বাগানের শ্রমিকরা জানান, ভোটের আগে অনেক প্রার্থী এলেও নির্বাচনের পর কেউ খোঁজ নেন না। তারা জানতে চান-নির্বাচিত হলে মুক্তাদির তাদের জন্য কী করবেন। মুক্তাদির সে সময় তাদের নানা সমস্যার সমাধান ও টেকসই উন্নয়নের আশ্বাস দেন।
কালাগুল চা–বাগানে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগানের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ মাদ্রাজি। তিনি বলেন,‘আমরা খন্দকার মুক্তাদিরেই আস্থা রাখছি। ধানের শীষেই ভোট দেবো।’
সভা পরিচালনা করেন শিক্ষক জনি নাহাক। বক্তব্য দেন ব্যবস্থাপক অরূপ চৌধুরী, সভাপতি রনঞ্জু নায়েক, বিলাশ ব্যানার্জি, বাতাশি বাউরি ও বাসন্তী নায়েক।
এরপর খাদিমনগরের সাহেবের বাজারে নারীদের জন্য পৃথক সমাবেশসহ বেশ কয়েকটি সভা-সমাবেশে অংশ নেন খন্দকার মুক্তাদির। প্রতিটি জায়গায় উপস্থিত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তার প্রতি সমর্থনের ঢেউ দেখা যায়।
সাহেবের বাজারে প্রবীণ মুরুব্বিদের সঙ্গে সভায় সভাপতিত্ব করেন রইছ আলী। বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইলিয়াস আলী মেম্বার, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহেদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কছির উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত গ্রামীণ জনগণ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন-রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা, নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা-সবকিছুই আলোচনায় আসে।
শেষে খন্দকার মুক্তাদির বলেন- ‘বিগত সময়ে কেউ মুরব্বিদের সঙ্গে বসে মতবিনিময় করেননি, কারণ ভোটের দরকার ছিল না-রাতেই ভোট হয়ে যেত। এবার সুযোগ পেলে সিলেট সদর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটাবো।’
তিনি আরও বলেন‘বাগান ও গ্রামের মানুষের ভালোবাসা ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করবে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




