বায়ান্ন’র ভাষা আন্দো*লন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ থেকেই সূচিত হয়েছে - কবি আবদুল হাই শিকদার
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১২:৪৪ PM

ষোড়শ কেমুসাস সাহিত্য সম্মেলন ২০২৫

বায়ান্ন’র ভাষা আন্দো*লন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ থেকেই সূচিত হয়েছে - কবি আবদুল হাই শিকদার

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩/১১/২০২৫ ০১:১১:৪৭ AM

বায়ান্ন’র ভাষা আন্দো*লন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ থেকেই সূচিত হয়েছে  - কবি আবদুল হাই শিকদার

ছবি:সংগৃহীত


বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কবি, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ থেকেই সূচিত হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের জন্য প্রথম যে সভাটি হয়েছিল, সেটি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ আয়োজন করেছিল। তাই কেমুসাসকে পাশ কাটিয়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়। সিলেট অসংখ্য অগণিত মহামানব এবং বরেণ্য ব্যক্তিদের পীঠস্থান। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এই ধরনের মানুষ সৃষ্টিতে ভ‚মিকা রাখছে। আমাদের জাতীয় সাহিত্য-সংস্কৃতির মাঝে যে দুর্যোগ চলছে, এজন্য লেখকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। কালচারাল হেজিমনিকে মোকাবেলা করার মাধ্যমেই আমরা আমাদের কালচারাল পলিসি ঠিক করতে পারবো।

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ-এর উদ্যোগে ষোড়শ কেমুসাস সাহিত্য সম্মেলন ২০২৫-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার (২২ নভেম্বর) দিনব্যাপী সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন সন্ধ্যায় কেমুসাস শহিদ সোলেমান হলে অনুষ্ঠিত হয়। সংসদের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানের সভাপতিত্বে এবং আল ইসলাহ সম্পাদক, সম্মেলন উদযাপন উপকমিটির সদস্য সচিব আহমদ মাহবুব ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. রিজাউল ইসলাম, কেমুসাস সাহিত্য পুরস্কারে ভ‚ষিত বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক সোলায়মান আহসান।
 ‘সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য বিনির্মাণে সিলেটী নাগরীলিপির ভ‚মিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক মোস্তফা সেলিম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কেমুসাসের সাবেক সভাপতি কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেমুসাসের কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সম্মেলন উদযাপন উপকমিটির আহবায়ক কবি কামাল তৈয়ব। এবারের সাহিত্য সম্মেলন শেকড়সন্ধানী গবেষক অধ্যাপক মুহম্মদ আসাদ্দর আলীকে নিবেদিত করা হয়েছে। নিবেদিত ব্যক্তির পরিচিতি পাঠ করেন সংসদের লাইব্রেরি সম্পাদক নাজমুল আনসারী এবং পুরস্কারে ভ‚ষিত কবি সোলায়মান আহসানের পরিচিতি পাঠ করেন সংসদের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক কামরুল আলম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কবি ক্বারী আব্দুল বাছিত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিকে উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ পুরস্কারে ভ‚ষিত কবি ও কথাসাহিত্যিক সোলায়মান আহসানের নিকট পদক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন। সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন কবি সম্মেলন সকাল এগারোটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এবং এতে অনুষ্ঠানে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ কবিকে পুরস্কৃত করা হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন কেমুসাসের সাবেক সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী এবং বক্তব্য রাখেন সংসদের সাবেক সভাপতি কবি রাগিব হোসেন চৌধুরী, বর্তমান সহ সভাপতি রুহুল ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। উদ্বোধন উপলক্ষে লেখক ও কবিদের একটি র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। সাহিত্য সম্মেলন উদযাপন উপকমিটির সদস্য ইশরাক জাহান জেলী ও মিনহাজ ফয়সলের যৌথ সঞ্চালনায় কবি সম্মেলনের প্রথম পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ তাজ উদ্দিন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. কামাল আহমদ চৌধুরী, মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের কার্যকরী পরিষদ সদস্য এম. আতাউর রহমান পীর, কার্যকরী পরিষদ সদস্য ছয়ফুল করিম চৌধুরী হায়াত। সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে কবিকণ্ঠে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত কবি-সাহিত্যিকরা কবিতা পাঠ করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে কবিদেরকে প্রশংসাপত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. রিজাউল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করে চলছে। নাগরী সাহিত্যে ফকিরি ধারার যে প্রেমরস তা বৌদ্ধিক প্রভাব, বাউল এবং সুফিবাদীদের কারণে হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের ফকিরি ধারার যে অপ্রকাশিত গানগুলো রয়েছে, সেগুলো সংগ্রহ করতে পারলে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এজন্য তরুণ কবি-সাহিত্যিকদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে। গবেষক মোস্তফা সেলিম নাগরীলিপি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন, তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে কবি ও কথাসাহিত্যিক সোলায়মান আহসান বলেন, আমার জন্মভ‚মি সিলেটে। আমার সাহিত্যের যাত্রা মধ্য সত্তর ও আশির দশকে। আমাদের রাজনৈতিক, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংকট চলছে। ভিন দেশি রাজনীতি এবং সাহিত্য আমাদের নৈতিক অবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এরূপ অবস্থায় জন্মভূমির সাহিত্যের পীঠস্থান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কর্তৃক পুরস্কার পাওয়ায় নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি এজন্য কেমুসাস কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

মূল প্রবন্ধের বক্তব্যে গবেষক মোস্তফা সেলিম বলেন, সিলেটি নাগরীলিপি বাংলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের ভাবের বাহন হয়ে বিকশিত করেছে এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা, সৃজন ও ভাবস্তর। নাগরীলিপিই সিলেটি সংস্কৃতির উদার মানবিক এবং প্রেমময় দর্শনকে ধারণ করে সিলেটের পরিচিতি নির্মাণ করেছে। সিলেটকে দিয়েছে মহিমা। এই লিপি আবিষ্কার ও চর্চার মধ্য দিয়ে বাংলার একটি অঞ্চল সিলেট হয়েও সিলেট এক স্বতন্ত্র সংস্কৃতির জন্মভ‚মি হিসেবে তার আত্মপরিচয় নির্মাণ করেছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেন, কেমুসাসের ৯০ বছরের পদযাত্রায় এর রয়েছে আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। এর প্রধান কাজ হলো লেখক সৃষ্টি করা। যারা জাতির রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংকটে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। আমি আশা করবো, আমাদের লেখকরা ভবিষ্যতেও বুদ্ধিবৃত্তিক ও অন্তর্গত আলোকে জাগ্রত করে সমাজকে মানবিকতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে সেলিম আউয়াল বলেন, কল্যাণময়-সৌহার্দ্যপূর্ণ অগ্রসর সমাজ বিনির্মাণ, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদেরকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কেমুসাস ১৯৩৬ সাল থেকে কাজ করে আসছে। আমাদের বিশ^াস, সাহিত্য সম্মেলনের মাধ্যমে লেখক-সাহিত্যমোদী-পাঠকদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে। একই সাথে জ্ঞানচর্চার দিগন্ত আরো সম্প্রচারিত হবে।



জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ