ছবি:সংগৃহীত
সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান বলেছেন, ‘আমি এমপি হলে ইঞ্জিনিয়াররা ঘরে ঘুমাতে পারবে না, কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে।’
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের হাদারপার বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ‘৩১ দফা’ প্রচার ও লিফলেট বিতরণের অংশ হিসেবে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।
সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রচলিত বিভ্রান্তির বিষয়ে তিনি বলেন,‘অনেকেই মনোনয়ন চাইছেন-হাকিম সাহেব, মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের স্ত্রী, হেলাল সাহেব, আরিফুল হক চৌধুরী, মিফতা সিদ্দিকীসহ আরও অনেকে। তবে এই জনপদে আমি ২৮ বছর ধরে কাজ করছি। ২০১৮ সালে আমি সেলিম সাহেবকে সিনিয়রিটির কারণে ছাড় দিয়েছিলাম। এখন কাজের ধারাবাহিকতা ও ত্যাগের কারণে আমিই মনোনয়নের প্রধান দাবিদার।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশে একটি স্বৈরশাসন চেপে বসেছিল। গুম, খুন ও গায়েবি মামলা দিয়ে মানুষকে জর্জরিত করা হয়েছে। ২০১০ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর বিচারে ২০২৪ সালে সেই স্বৈরাচারকেই ছাত্র-জনতা দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, হেফাজতের শাপলা চত্বরের সমাবেশে আলেম-ওলামাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। ভোটের অধিকার হরণ করে বাক্সে আগে থেকেই সিল মেরে রাখা হতো। এই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার প্রতিবাদ করায় সিলেটের কৃতী সন্তান জননেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। শোনা যায়, তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সিলেটের পাথর ও খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ এই অঞ্চলকে ‘গরিব’ আখ্যা দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অ্যাডভোকেট জামান বলেন, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর অঞ্চল খনিজ সম্পদে ভরপুর। এখান থেকে সবাই শুধু টাকা কামাতে আসে, কিন্তু উন্নয়ন করে না। এই ধনী অঞ্চল থেকে সম্পদ শুষে নিয়ে একে গরিব করে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা এতই নাজুক যে, মা-বোনদের সাধারণ চিকিৎসার জন্য বা ছোটখাটো সেলাইয়ের জন্যও সিলেটে ছুটতে হয়। বিগত দিনের জনপ্রতিনিধিরা এখানে একটি ৫০ শয্যার হাসপাতালও চালু করতে পারেননি।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে ১৬তম দিনে রাস্তার কাজ শুরু করব। ইঞ্জিনিয়ার বা আমলারা যাতে কাজে ফাঁকি না দিতে পারে, সে বিষয়ে আমি কঠোর থাকব।
আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সভায় স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




