এবার সীমান্তে ‘সুর’ তুলেছেন অরিফ,নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৩৫ AM

এবার সীমান্তে ‘সুর’ তুলেছেন অরিফ,নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে

প্রকাশিত: ২৫/১১/২০২৫ ১১:২৬:২৫ PM

এবার সীমান্তে ‘সুর’  তুলেছেন অরিফ,নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট-১ আসন মনোনয়ন চেয়ে বসেছিলেন বিএনপি চেয়ারপর্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তবে, দল এ আসনে মনোনয়ন দেয় আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। মনোনয়ন বঞ্চিত আরিফুল হক চৌধুরী পরদিনই ঢাকায় ছুটে যান। ঢাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে একাধিক মিটিং হয় অরিফুলের। তখন তাকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হতে প্রস্তাব দেওয়া হয়। আরিফ প্রথমে রাজি না হলেও শেষমেষ বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে মত পরিবর্তন করেন।

এরপর একাধিক গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ‘দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন।

এরপর সিলেটে ফিরে আটঘাট বেঁধেই ভোটের মাঠে নেমেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। আরিফের হঠাৎ ইউটার্ন নিয়ে তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন দীর্ঘদিন নগরে রাজনীতি করা অরিফুল হক অচেনা-অজনা সীমান্ত জনপদে নিজের অবস্থান কতটা জানান দিতে পারবেন। তবে আরিফ থেমে থাকেন নি। শক্ত করেই হাল ধরেছেন। দৃঢ় মনোবল নিয়ে নেমেছেন ভোটের ময়দানে।

ভোটের মাঠে নামার আগে তার কছে প্রশ্ন ছিল- ‘নির্বাচন সময় আর মাত্র তিন মাস বাকি, এই সময়ে আপনি অচেনা-অজানা সিলেট-৪ আসনে ধানের শীষের ‘সুর’ কতটা তুলতে পারবেন? উত্তরে আরিফ একবাক্যে বলেছিলেন ‘‘তিন মাস কেন, তিন দিনেই সুর উঠে যাবে।’

অবশেষে তাই হলো- নগর ছেড়ে এবার সীমান্ত জনপদে শক্ত ঘাঁটি গেড়েছেন অরিফ। অল্প দিনেই তুলেছেন ধানের শীষের ‘সুর’। সীমান্তঘেঁষা জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত (সিলেট-৪) আসনে অল্পদিনে ভালো সাড়া ফেলেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তাকে নিয়ে ভোটের মাঠে আবহ তৈরি হয়েছে। সবার মুখেমুখে এখন অরিফুল হক চৌধুরীর নাম।
স্থানীয়রা বলছেন ‘কম দিনে সুর উঠি (উঠে) গেছে। আরিফ সাব (সাহেব) সফল।

এদিকে দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীও অরিফুল হকের সঙ্গে প্রচারণায় নেমেছেন। প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে আরিফুলের নাম। এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকা (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর)-এ সমাবেশ করেছেন তিনি। এসব সমাবেশে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

এসব সমাবেশে আরিফ তিন উপজেলাকে উন্নত জনপদে রূপান্তর করার কথা বলছেন। জানিয়েছেন- নির্বাচনের মাঠে নামার আগে তিনি এলাকার উন্নয়নের কথা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে জানিয়েছেন।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এক বছরের মধ্যে তিন উপজেলার চেহারা পাল্টে দেয়ার ঘোষণা দেন আরিফ। তবে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করার কারণে ওই তিন উপজেলার নেতাকর্মীরা এখনো বিভক্ত। তারা জানিয়েছেন- প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর সেটি থাকবে না। তখন সবাই ধানের শীষের পক্ষে মাঠে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামবে।

স্থানীয় একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, ‘অরিফুল হক চৌধুরী অভিজ্ঞ রাজনীতিক। সিলেট নগরে দুই মেয়াদে তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন। সাজিয়েছেন নিজের মতো করে। এবার তাঁকে ঘিরেই উন্নয়ন বঞ্চিত-অবহেলিত সিলেট-৪ আসনে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন তারা।’

প্রার্থীতা প্রসঙ্গে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছি। দলের নির্দেশনা মেনে কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিলেট-৪ আসন খনিজ সম্পদে ভরপূর। আমি নির্বাচিত হলে এই তিন উপজেলাকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো। এই তিনি উপজেলাকে ঘিরে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।’


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ