ছবি: সংগৃহীত
নিখোঁজের ২৬ দিন পেঁড়িয়ে গেলেও খোঁজ মিলেনি হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের মাহবুব আলম শাওন (৩৭) এর। গত ২৭ আগষ্ট রাতে নিখোঁজ শাওনের স্ত্রী রেজিনা আক্তার এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। নিখোঁজ মাহবুব আলম শাওন পৌরসভার শরীফ নগরের মৃত কামাল মিয়ার পুত্র। গত ৯ আগষ্ট বিকালে বাসা থেকে বের হবার পর আর বাসায় ফেরেনি শাওন।
জানা গেছে, গত ৯ আগষ্ট রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটায় শাওন তার দুই বন্ধু পৌরসভার নয়ানগর গ্রামের সরকার মিয়ার পুত্র মোহন মিয়া (৩৬) এবং নগর গ্রামেের মৃত মারফত আলীর পুত্র হেলাল মিয়া (৩৭) কে সাথে নিয়ে কাকাইলছেও ইউনিয়নের সৌলরী মুচি বাড়ী থেকে মদপান করে মোটর সাইকেল যোগে আজমিরীগঞ্জ সদরে আসার পথে কালনী পাড়ার সাবেক ইউপি সদস্য জলিল মিয়ার নতুন বাড়ীর সন্নিকটে রনিয়া গ্রামের রহিম আলীর পুত্র সুন্দর আলী (৪০) কে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সুন্দর আলী মাটিতে পড়ে পায়ে আঘাত প্রাপ্ত হন। আহত হন শাওন ও মোহন মিয়া ও।
এ সময় কালনীপাড়া গ্রামের হরমুজ মিয়া ও মজনু মিয়ার পুত্র আবু তালেব, জনি মিয়া সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সুন্দর আলীকে মৃত ভেবে শাওন ও তার দুই বন্ধুকে তাড়া করেন। এ সময় হেলাল ও মোহন মিয়া আজমিরীগঞ্জ সদর অভিমুখে দৌড় দিলে ও প্রাণ বাঁচাতে শাওন গ্রামের ভিতরে দৌড়ে যায়। এ সময় হরমুজ মিয়া ও আবু তালেব সহ বেশ কয়েকজন শাওনকে তাড়া করে। এরপর থেকেই খোঁজ মিলছে না শাওনের।
থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর শাওনের ব্যাবহৃত লাল রঙ্গের টিভিএস মেট্রো প্লাস মোটর সাইকেলটি সদর ইউনিয়নের রনিয়া গ্রামের ইউপি শহিদ মিয়ার বাড়ী থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ইউপি সদস্য শহিদ মিয়া জানান, এক্সিডেন্টের পর কালনী পাড়া গ্রামের হরমুজ মিয়া ও আরেকজন সাইকেলটি আমার বাড়িতে রেখে যান । তবে সরজমিনে অনুসন্ধানে ইউপি সদস্য শহিদ মিয়ার বক্তব্যের সাথে বিষয়টির কোন মিলই পাওয়া যায়নি৷ ঘঠণার পর মোটর সাইকেলটি কালনীপাড়ার এলাছ মিয়ার বাড়ীর সামনে রাখা হয়৷
এলাছ মিয়া জানান, রাতে বাড়ী ফিরে মোটর সাইকেলটি আমার বাড়ীর সামনে দেখতে পাই। এ সময় জানতে পারি এখানে দুর্ঘটনা ঘঠেছে। আমি তখন শহিদ মেম্বারকে ফোন দিলে তিনি জানান আমরা রোগী (সুন্দর আলী)কে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছি পড়ে সাইকেল আমি নেয়ার ব্যাবস্থা করবো । ১১ আগষ্ট শহিদ মেম্বারের ভাগিনা এসে সাইকেলটি নিয়ে যায়।
সুন্দর আলী জানান, আমি, হরমুজ মিয়া ও আবু তালেব হাটতে হাটতে কথা বলতে বলছিলাম। এসময় মোটর সাইকেল টি এসে হাতল দিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে আমি পড়ে যাবার পর সাইকেলটি আমার পায়ের উপর দিয়ে যায়। এ সময় হরমুজ আমাকে ধরে এবং আবু তালেব মোটর সাইকেল আরেহীদের পিছনে তাড়া করে৷ এরপরই আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।
শাওনের সাথে থাকা মোহন মিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর আমি সড়কে দিকে ও হেলাল হাওড়ের দিকে এবং শাওন গ্রামের ভিতরে দৌড়ে যায়। আমার পিছনে তাড়া করছিলো ৮ থেকে ১০ জন শাওনের পিছনে ছিলো ৬ থেকে ৭ জন।
একই দিন মধ্য রাতে হেলাল মিয়াকে নিয়মিত একটি মামলায় আটক করে আজমিরীগঞ্জ থানা পুলিশ।
জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা আজমিরীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক ভুপেন্দ্র চন্দ্র বর্মন জানান, শাওনের সিমের শেষ লোকেশন আজমিরীগঞ্জ-কাকাইলছেও সড়কে দেখা গেছে । রাত আটটা একত্রিশ সেকেন্ডে পর্যন্ত মোবাইল খোলা ছিলো বলে আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পেরেছি।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মাসুক আলী বলেন, আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি৷ এখনো শাওনের কোন সন্ধান আমরা পাইনি। তবে আমরা আমাদের সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
এম সি




