ছবি : সংগৃহীত
ক্লাব বিশ্বকাপে পিএসজির মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে যে ঢেউ তুলেছিল বোতাফোগো, পরদিনই চেলসিকে হারিয়ে সেই ঢেউকে রীতিমতো ঝড়ে রূপ দিল ফ্ল্যামেঙ্গো। এই জয়ের মাধ্যমে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি জানিয়ে দিল—এই টুর্নামেন্টে তারা এসেছে শুধু অংশ নিতে নয়, এসেছে দাবিদার হয়ে।
শুক্রবার রাতে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ৩-১ গোলের জয় তুলে নেয় ফ্ল্যামেঙ্গো। ৩৩ বছর পর ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও শেষমেশ জয় পেল দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দল।
ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিনানশিয়াল ফিল্ডে প্রায় ৫৪ হাজার দর্শকের সামনে শুরুটা অবশ্য ব্রাজিলিয়ানদের পক্ষে ছিল না। মাত্র ১৩ মিনিটেই উইঙ্গার পেদ্রো নেতোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় চেলসি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের সামান্য ভুল কাজে লাগিয়ে প্রথম ধাক্কাটি দেয় ইংলিশ ক্লাবটি।
কিন্তু আক্রমণাত্মক মানসিকতায় খেলা ফ্ল্যামেঙ্গো দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে। খেলা গড়ায় টানটান উত্তেজনায়। ৬২ মিনিটে সমতায় ফেরান ব্রুনো হেনরিকে। বক্সের ভেতর ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে নেয়া এই গোল ছিল কেবল শুরু।
এর তিন মিনিট পরেই আসে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। কর্নার থেকে হেড-পাসে বল পান দানিলো, যিনি কোনোরকম দেরি না করে দুর্দান্ত ভলিতে বল জড়ান জালে। ফ্ল্যামেঙ্গো এগিয়ে যায় ২–১ গোলে। সেখান থেকেই ম্যাচে ফিরে আসার আর কোনো পথ খুঁজে পায়নি চেলসি।
চেলসির জন্য বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হয় ৬৮ মিনিটে, যখন ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। দশজনের দলে পরিণত হওয়া চেলসির রক্ষণপথ তখন আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই সুযোগ নিয়েই ৮৩ মিনিটে ওয়ালাসে ইয়ানের দারুণ গোলে ব্যবধান ৩–১ করে ফেলে ফ্ল্যামেঙ্গো।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলেও ফ্ল্যামেঙ্গোর জয় হয়ে থাকে ইতিহাসগড়া। শুধু ফলাফল নয়, এই জয় ৩৩ বছর পর একটি বিশেষ রেকর্ডও ফিরিয়ে এনেছে দক্ষিণ আমেরিকায়—ইউরোপিয়ান ক্লাবের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় পাওয়ার অনন্য কীর্তি। শেষবার এমনটা হয়েছিল ১৯৯২ সালে, বার্সেলোনার বিপক্ষে সাও পাওলোর জয় দিয়ে।
দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফ্ল্যামেঙ্গো এরই মধ্যে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে, চেলসি ও ইএস তিউনিসের পয়েন্ট সমান ৩ করে। পরবর্তী ম্যাচে মুখোমুখি হবে এই দুই দল, আর জয় পেলেই শেষ ষোলোতে ফ্ল্যামেঙ্গোর সঙ্গী হবে বিজয়ী দলটি।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




