ছবি : সংগৃহীত
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনবঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এক সপ্তাহের মধ্যে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার দুপুরে নগরের চৌহাট্টাস্থ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলনে করে এ দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বেতনবঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী মাসুদ।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাবেক উপাচার্য এনায়েত হোসেন তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন- সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন আমাদেরকে একাধিকবার চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি তার মেয়াদে পরপর দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। আজ অবদি সেই দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
কাজী মাসুদ আরও বলেন- ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলে সাবেক ভিসি এনায়েত ও রেজিস্ট্রার গা ঢাকা দেন। সাবেক ভিসি এনায়েত স্বৈরশাসক হাসিনার ব্যক্তিগত চোখের চিকিৎসক ছিলেন। আর রেজিস্ট্রার ফজলুর রহমান ছিলেন এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। দুজনেই ফ্যাসিস্টের দোসর হওয়ায় জনরোষ থেকে বাঁচতে লাপাত্তা হয়ে যান। এরপর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার ফজলুর রহমান পদত্যাগ করেন। আর চার মাস পর গেল বছরের ৭ নভেম্বর ক্যাম্পাসে ফিরলে অবরুদ্ধ হন ভিসি ডা. এনায়েত হোসেন। পুলিশ, সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে প্রায় আড়াই ঘন্টা পর মুক্ত হন তিনি। এ সময় ১৫ দিনের মধ্যে দাবি পুরণের আশ্বাস দেন ভিসি। এরপর ১১ তম সিন্ডিকেট সভায় অস্থায়ী কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নাজমুল ইসলামকে সভাপতি করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে অনিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে এখনো নিয়োগপ্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কাজি মাসুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে ৬ ডিসেম্বর অনিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেন। পরবর্তী সময়ে ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি তাঁদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সাবেক উপাচার্য এনায়েত হোসেন পদত্যাগ করেন। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন উপাচার্য হিসেবে ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী যোগ দেন। তিনি যোগ দেওয়ার পর ১৬ মার্চ অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ২৩ মার্চের সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সভাপতি না থাকায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। সিন্ডিকেট সভার পর থেকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে আর অফিস করেননি। তিনি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের স্বৈরাচারের দোসরদের দিয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সংবাদ সম্মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমাকে ১১ তম সিন্ডিকেটে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো। আমি ইতোমধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছি। যারা ফ্রেশ ক্রাইটিরিয়া ফুলফিল করেছে তাদেরকে সুপারিশ করা হয়েছে। এখন উপচার্য বিষয়টি দেখবেন।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারি বলেন, আমি মাত্র যোগদান করেছি। দেখেন এদের বিষয়গুলো অনেক পুরনো। আগের দুই উপচার্য সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছেন পারেন নি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি পাশ হয়নি। সংবিধি ছাড়া স্থায়ী নিয়োগে যাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, কমিটি যে সুপারিশ দিয়েছে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এটি উত্থাপন করা হবে। সেখানে আলোচনা করে সমাধানের একটা পথ বের করা হবে।
বেতনবঞ্চিদের আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেখেন তারা আন্দোলন করছে এটা যৌক্তিক। তাদের রাইটস আছে। তবে আমিতো আইনের বাইরে যেতে পারবো না।
জৈন্তাবার্তা / রহমান




