ছবি নিজস্ব
সিলেটের গোলাপগঞ্জের শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীতে রামপুর থেকে বসন্তপুর পর্যন্ত ব্লকগুলো সংস্কার করা হয়নি। ফলে রামপুর, কদুপুর ও বসন্তপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানের ব্লক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও নদীপাড়ের বিভিন্ন স্থানে এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে ব্লকগুলো। সংস্কারের অভাবে প্রায় ৬ কোটি টাকায় নির্মিত কুশিয়ারা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা প্রকল্পের সরকারি এ সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালীতে পূর্বের মতো নদীর পাড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়ে এ ইউনিয়নের অন্তত ৩টি গ্রাম নদীগর্ভে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। তাদের ধারণা, এমনটি হলে নদীতে ঘর-বাড়ি হারাবে শতাধিক পরিবার।
জানা গেছে, নদীভাঙন রোধে ব্লকগুলো সংস্কারের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে আবেদন করেন। কিন্তু ওই আবেদনের দীর্ঘদিন পরও সংশ্লিষ্টরা নদীর তীরের ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিনিয়ত আজ নয় কাল বলে আসছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
প্রায় ৩০ বছর পূর্বে শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কদুপুর, বসন্তপুর ও রামপুর গ্রাম নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এসময় প্রায় ৪০০ কিয়ার জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়। এরপর থেকে এসব এলাকার মানুষ নতুনভাবে আবাদী জমি ভরাট করে বসতভিটা তৈরি করে বসবাস করে আসছেন। অথচ ওইসব এলাকা থেকে হাকালুকি হাওরপাড়ের দূরত্ব ৬০০ থেকে ৭০০ মিটার। আবারও নতুন করে নদীভাঙন হলে এসব এলাকা নদীগর্ভে চলে গিয়ে হাকালুকি হাওরের সাথে মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে পূর্বের মতো কদুপুর, রামপুর ও বসন্তপুর গ্রামের বসতবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, হাট-বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভাঙন রোধে ২০০৭ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সহায়তায় শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা এম এ মুছাব্বিরের প্রচেষ্টায় গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কদুপুর, বসন্তপুর, মানিকোনা, বেলকোনা ও মঈনপুর এলাকায় ‘কুশিয়ারা নদীর ভাঙন হইতে রক্ষা প্রকল্প’ নামে প্রায় ১৩ কোটি ২২ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে শরীফগঞ্জ ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর বাম তীরে প্রায় ৮ কোটি ২০ লক্ষ টাকার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী। এরপর থেকে মুখে উন্নয়নের ফুলঝুরি ফোটালেও বাস্তবে কুশিয়ারা নদীর তীরে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। এ কারণে হুমকির মুখে পড়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এসব এলাকার লোকজন।
এলাকার বাসিন্দা রাজনীতিবিদ আব্দুল আজিজ, দেলওয়ার হোসেন শাহিন, শওকত আলী, সিরাজুল ইসলাম ও শিহাব উদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, গত বন্যার পানির কারণে ব্লকগুলো ধসে গেছে। একসময় হয়তো বসতবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ, মাদ্রাসা ও হাট-বাজার কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের মুখে পড়তে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নদীর তীরের ব্লকগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। নতুবা এসব এলাকা নদীভাঙনের ফলে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ নিয়ে এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।
৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল কাদির বলেন, এর আগেও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে কদুপুর, বসন্তপুর ও রামপুর গ্রামের শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। অনেকেই বাড়িঘর হারিয়ে অন্যত্র বসবাস করে আসছেন। নদী তীরবর্তী ফসলের জমি হারিয়ে যাচ্ছে। অসংখ্য গাছপালা চলে গেছে নদীগর্ভে। বর্তমানে নদীর অব্যাহত ভাঙনে আরও অসংখ্য বাড়িঘর ও স্থাপনা বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই ব্লকগুলো দ্রুত সময়ে সংস্কার করা প্রয়োজন।
শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ কবির বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে যেকোনো সময় অনেকের বাড়িঘড়, নদীর তীরবর্তী রাস্তাঘাট নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিপাকে পড়বে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




