ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের গোলাপগঞ্জে মেহেদী হোসাইন ওরফে আরিফ (৩৯) নামের এক যুবককে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মেহেদী হোসাইন উপজেলার মোশাহিদহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি যুবলীগের একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
তাঁরা আরও জানান, গত জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা-নাশকতার অভিযোগে হওয়া এক মামলায় গত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হন মেহেদী। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
মেহেদীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতে হেতিমগঞ্জ বাজারে একটি দোকানের সামনে গিয়ে চারটি মোটরসাইকেল করে অন্তত সাতজন দুর্বৃত্ত মেহেদীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলাকারীদের সহযোগিতায় পাশেই অন্তত দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আরও কয়েকজন দুর্বৃত্ত ছিল। তাঁরা একপর্যায়ে মেহেদীকে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়।
মেহেদী একসময় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানান তাঁর এক আত্মীয়। তিনি বলেন, মেহেদীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখনো শঙ্কামুক্ত নন। তাঁর হাত ও শরীরে প্রচুর ধারালো আঘাতের চিহ্ন আছে। কয়েক দিন আগে মেহেদীর কাছে কিছু ব্যক্তি মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিলেন। ওই চাঁদা দাবিকারীরাসহ গ্রামের পূর্ববিরোধে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি এই হামলা ঘটিয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা আছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
রাজনৈতিক কারণে এ হামলা ঘটেছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা। তিনি বলেন, মূলত ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে। অভিযোগ পেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত ওই যুবকের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ অবহিত নয়।
জৈন্তাবার্তা/ মনোয়ার




