সংগৃহিত
কুমিল্লা জেলা পরিষদের বরাদ্দ বণ্টনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশেষ বরাদ্দের নামে জেলার দুটি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে অন্যান্য উপজেলা বঞ্চিত হয়েছে।
শনিবার কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মুরাদনগর উপজেলার জন্য ১৫ কোটি এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে সেই নীতির প্রতিফলন দেখা যায়নি।
তবে পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মোস্তাক মিয়া বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ করেননি। বরং সংশ্লিষ্ট দুই নেতার নিজ নিজ এলাকার জন্য বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ওই অর্থবছরে জেলার অধিকাংশ উপজেলা উল্লেখযোগ্য কোনো বরাদ্দ পায়নি, ফলে উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জেলা পরিষদের হিসাব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দের বড় অংশ মুরাদনগর ও দেবীদ্বার উপজেলায় ব্যয় করা হয়। একই সময়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ পেলেও জেলার অন্য উপজেলাগুলো তুলনামূলকভাবে খুব কম সুবিধা পেয়েছে।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বরাদ্দের অর্থ কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয়নি; উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য উপজেলাকে দেওয়া হয়েছে। কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে বরাদ্দ আনার চেষ্টা করাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, দেবীদ্বারের জন্য পাওয়া অর্থ স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দ হিসেবে এডিপি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় হয়েছে এবং এর সঙ্গে জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের কোনো সম্পর্ক নেই।
জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বক্তব্যটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরাদ্দকৃত অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে এবং তার যথাযথ নথিপত্র রয়েছে।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের বিভিন্ন সংকটময় সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি তাঁর আদর্শ, দায়িত্ববোধ ও জনগণমুখী রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করে নেতা-কর্মীদের সেই আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউসুফ মোল্লা। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




