চা-বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ ঈদে আসা পর্যটকেরা
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৮:৫৪ PM

চা-বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ ঈদে আসা পর্যটকেরা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০/০৫/২০২৬ ০৭:৪৯:৩০ PM

চা-বাগানের সৌন্দর্যে মুগ্ধ ঈদে আসা পর্যটকেরা

সংগৃহিত


পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা ছুটে এসেছেন চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল-এ। সবুজ চা-বাগান, পাহাড়, বনাঞ্চল ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন ভ্রমণপ্রেমীরা। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ, সড়কপথে যানজট, ট্রেনের টিকিট সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকেই ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। ফলে ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকলেও আগের বছরের মতো উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়নি।

শ্রীমঙ্গলের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে বিস্তীর্ণ চা-বাগান, বধ্যভূমি-৭১, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হরিণছড়া গলফ মাঠ, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই), রাবার বাগান, বাইক্কা বিল, চম্পা লেক, সাত রঙের চা, লাল পাহাড়, খাসিয়াপল্লি ও মণিপুরিপাড়া। এছাড়া পার্শ্ববর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত এবং বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে।

ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানান, কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁরা এখানে এসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। চারদিকে সবুজের সমারোহ, শান্ত পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাঁদের মুগ্ধ করেছে। অনেকের মতে, ব্যস্ত নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করে মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়ার জন্য শ্রীমঙ্গল অন্যতম সেরা গন্তব্য।

পর্যটন উদ্যোক্তারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে এলাকার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছিল। ঈদের দিন পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পর্যটক বাইরে ঘোরাঘুরির পরিবর্তে আবাসনকেন্দ্রেই সময় কাটাচ্ছেন।

পর্যটন সেবা সংস্থার নেতারা বলছেন, বড় উৎসব ও দীর্ঘ ছুটির সময়গুলোকে ঘিরেই স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা সারা বছর অপেক্ষা করেন। কিন্তু এবার প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক না আসায় ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবুও ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তারা আশাবাদী।

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ