জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এক মাসের ব্যবধানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো জনগণের ওপর এক ধরনের জুলুম। মূল্যবৃদ্ধি করতে হলে তা সংসদে আলোচনা করে করা উচিত ছিল। কিন্তু জনগণ ঘুমিয়ে থাকার সময়ে রাতের আঁধারে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেটের বাদাঘাট এলাকায় নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
ফাহিমা হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা লম্পট ছেলের হাতে ফাহিমার জীবন ও ইজ্জ্বত ছন্নভিন্ন হয়েছে। একটা গোলাপ ফুলের মতো বাচ্চাকে তার বা-মায়ের চোখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই লম্পটের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে তার দুনিয়ায় বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এরকম লম্পটদের শাস্তি না হলে লম্পটদের দৌরাত্ম বেড়ে যাবে। আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত। আমরা মাসুম বাচ্চাদের ইজ্জত রক্ষা করতে পারছি না। অথচ আমরা বড় বড় কথা বলি। কেউ কেউ হুমকির সুরে কথা বলছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার যদি দীর্ঘসূত্রিতার দিকে যায়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই বিচার আর হবে না। রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো ফাহিমা হত্যার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে- সরকারকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, দেশ ভালো নেই। এতো মানুষের রক্তের বিনিময়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দেশ এখন সেই প্রত্যাশার বিপরীতে হাঁটছে। তবে ওই স্রোত যতই ভয়াবহ হোক, আমরা সেই স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে যাবো।
বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটুকু বলা যায়, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ ভালো নেই।
হামে শিশুমৃত্যু প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হামে শিশুমৃত্যুর দায় সবার। কেবল অন্তর্বর্তী অন্তর্বর্তী করে লাভ নেই। অন্তর্বর্তী সরকার যদি হামের টিকা না দিয়ে থাকে, তাও জনগণ জানতে চায়। এই সরকার তো হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে নাই। আরও আগে থেকেই তো হামের প্রাদুর্ভাব। তারা কেন আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলো না? কেন আগে থেকে টিকার ব্যবস্থা করলো না? এ ব্যাপারে আমি সংসদে কথা বলবো।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




