সাড়ে ছয় মাসেও শেষ হয়নি শাবিপ্রবির ভর্তি কার্যক্রম,৬ষ্ঠ ধাপেও ফাঁকা আসন, বাড়ছে সেশনজটের শঙ্কা
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ AM

সাড়ে ছয় মাসেও শেষ হয়নি শাবিপ্রবির ভর্তি কার্যক্রম,৬ষ্ঠ ধাপেও ফাঁকা আসন, বাড়ছে সেশনজটের শঙ্কা

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/০৬/২০২৬ ০৫:১৮:৩৪ PM

সাড়ে ছয় মাসেও শেষ হয়নি শাবিপ্রবির ভর্তি কার্যক্রম,৬ষ্ঠ ধাপেও ফাঁকা আসন, বাড়ছে সেশনজটের শঙ্কা

সংগৃহীত


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম প্রায় সাড়ে ছয় মাস পেরিয়েও শেষ হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সপ্তম ধাপে ভর্তি চলছে। দীর্ঘায়িত এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ নভেম্বর ২০২৫ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হতে সময় লাগছে প্রায় ৬ মাস ১৫ দিন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যেখানে সাধারণত ছয় মাসে একটি পূর্ণ সেমিস্টারের কার্যক্রম শেষ হয়, সেখানে ভর্তি প্রক্রিয়াই সাড়ে ছয় মাস ধরে চলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সেশনজটের আশঙ্কা।

এদিকে ষষ্ঠ ধাপেও আসন পূরণ না হওয়ায় সপ্তম ধাপে ভর্তি নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাঙ্কিংয়েও শাবিপ্রবির অবস্থান নিম্নমুখী হওয়ায় শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার বিন সেলিম বলেন, “যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের মূল ভিত্তি তার শিক্ষার্থীদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও শিক্ষার পরিবেশ। একসময় আমাদের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নানা উদ্ভাবনী কাজে চমক দেখাত। কিন্তু এখন সেই পরিবেশ অনেকটাই অনুপস্থিত।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ার পর পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এখন শিক্ষার্থীদের চেয়ে প্রশাসনকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। এর প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা, গবেষণা ও সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশে।”

ভর্তি কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ভর্তি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কবীর চৌধুরী ও সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সেলিম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “আমি ভর্তি প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে দায়িত্বে এসেছি। পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও সময়মতো সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।”

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: