ছবি:সংগৃহীত
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চারটি গ্রাম আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (১৩ জুন) রাত থেকে শুরু হওয়া পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ভান্ডারুয়া, জামালপুর, এক্তিয়ারপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিমনা ছড়ার পাড় ভেঙে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঢলের পানিতে বেশ কয়েকটি মাটির ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। এতে অনেক এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো নিরাপদ স্থানে যেতে পারছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকশ একর আউশ ধান, মৌসুমি শাক-সবজি ও গবাদিপশুর খাদ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পুকুর ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মৎস্যচাষীরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকরা পুরো মৌসুমের ফসল হারানোর আশঙ্কা করছেন।
শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ একর আউশ ধান ও বিভিন্ন সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ত্রাণ বা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।’
এদিকে তেলাইন্নাছড়া পাহাড়ি ঢলের পানিতেও ছড়ার দুই পাড় প্লাবিত হয়েছে। এতে শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর এবং জগদীশপুর ইউনিয়নের তেমুনিয়া এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ফলে নতুন নতুন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত না কমলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তারা দুর্গত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




