মাধবপুরে বিনামূল্যে তিন শতাধিক রোগীর চোখের অপারেশনের উদ্যোগ
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ PM

মাধবপুরে বিনামূল্যে তিন শতাধিক রোগীর চোখের অপারেশনের উদ্যোগ

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫/০৯/২০২৬ ০২:৪২:১৪ PM

মাধবপুরে বিনামূল্যে তিন শতাধিক রোগীর চোখের অপারেশনের উদ্যোগ

ছবি নিজস্ব


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নকে শতভাগ ছানিমুক্ত করার লক্ষ্যে ৩০৩ জন চক্ষু রোগীর বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় অপারেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে কয়েকদিন ধরে চক্ষু রোগী শনাক্ত ও বাছাইয়ের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে রোগী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার থেকে পর্যায়ক্রমে বাছাই করা ৩০৩ জন রোগীকে মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় চোখের অপারেশন করা হবে। অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

নোয়াপাড়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে এবং মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সার্বিক সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করে রোগীদের প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা ও বাছাই করা হয়। এসব ক্যাম্পে ছানি ও অন্যান্য চক্ষু সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করা হয়। পরে অপারেশনের জন্য উপযুক্ত রোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে চূড়ান্ত বাছাই করা হয়।

আয়োজকরা জানান, প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ অর্থাভাবে চোখের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেন না। বিশেষ করে ছানি রোগে আক্রান্ত অনেক বয়স্ক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন। তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অপারেশনের আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সোহেল বলেন, ইউনিয়নের কোনো মানুষ যেন অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নোয়াপাড়া ইউনিয়নকে শতভাগ ছানিমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, বিনামূল্যে চোখের অপারেশনের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, দরিদ্র অসহায় রোগীদের জন্য নেওয়া এমন একটি অভিনব উদ্যোগ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।

জৈন্তাবার্তা/আরআর