পেটে গজ রেখেই সেলাই’- হাসপাতালের বি/রুদ্ধে অ/ভিযোগ
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ PM

পেটে গজ রেখেই সেলাই’- হাসপাতালের বি/রুদ্ধে অ/ভিযোগ

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭/০৯/২০২৬ ০৭:০৬:৫২ PM

পেটে গজ রেখেই সেলাই’- হাসপাতালের বি/রুদ্ধে অ/ভিযোগ

সংগৃহিত


হবিগঞ্জের মাধবপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক প্রসূতীর পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ওই প্রসূতীকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে তার পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পরিবার। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে মাধবপুরের মা মণি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় কোনো গজ-ব্যান্ডেজ রোগীর পেটে রয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রোগীর অন্ত্রে যক্ষ্মা (টিবি) এবং এর ফলে খাদ্য চলাচলের পথে ব্লক ধরা পড়ে। হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই তাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই প্রসবব্যথা নিয়ে মাধবপুর উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার মেয়ে ঝুমা আক্তারকে মা মণি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে জানালে ডা. আরিফের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। সন্তান প্রসবের পর মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

তবে ডা. আরিফ ঝুমাকে সিজার করার কথা অস্বীকার করেছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর থেকেই ঝুমা পেটে তীব্র ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন। কয়েক দফা চিকিৎসা নেওয়ার পরও ব্যথা না কমায় গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তাকে পুনরায় মা মণি হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনদের ভাষ্য, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় সেখানে আর চিকিৎসার সুযোগ নেই। পরে তাকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, সেখানে রোববার রাতে ঝুমার পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় তার পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে বলে স্বজনরা দাবি করেছেন। বর্তমানে তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে মা মণি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, ওই নারী বাড়িতে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। জরুরি ভিত্তিতে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। তিন দিন পর মা ও নবজাতক সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পরবর্তীতে পেটে ব্যথা নিয়ে রোগী হাসপাতালে এলে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়ার পর ব্যথা কমে যায় এবং তিনি বাড়ি ফিরে যান। পরে আবার ব্যথা বেড়ে গেলে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। এতে পেটে পানির উপস্থিতি ধরা পড়ে। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে সিলেটে রেফার করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিলেটে প্রাথমিকভাবে অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতার আশঙ্কায় রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার অন্ত্রে যক্ষ্মা (টিবি) ধরা পড়ে। এর ফলে অন্ত্রে খাদ্য চলাচলের পথে ব্লক তৈরি হয়েছিল। পরে এ কারণে তার পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারেও সিজারিয়ান অপারেশনজনিত কোনো জটিলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করার অভিযোগকে তারা ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা সুনামের সঙ্গে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। একটি চিকিৎসা ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইবনে সিনা হাসপাতালের বক্তব্য

এ বিষয়ে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে ফ্রন্ট ডেস্কের শাকির নামের একজন জানান, এ বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমরা কোনো তথ্য দিতে পারব না। যে ডাক্তার অপারেশন করেছেন, তাঁর ফোনে আমাদের এক্সেস নেই। ঝুমার অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলুন।”

ঘটনাটি নিয়ে রোগীর পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় প্রকৃত ঘটনা জানতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি, অস্ত্রোপচারের প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞ মতামত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ