পাঁচ লাখ টাকা দিয়েও বন্ধ হয়নি নি/র্যাত/ন, মুন্নীকে হ/ত্যার অভি/যোগ
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০৯ PM

বড়লেখায় মুন্নির বাবা ও মায়ের সংবাদ সম্মেলন

পাঁচ লাখ টাকা দিয়েও বন্ধ হয়নি নি/র্যাত/ন, মুন্নীকে হ/ত্যার অভি/যোগ

মোহাম্মদ মোস্তফা উদ্দিন, বড়লেখা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯/০৮/২০২৬ ০৬:৩৫:৪২ PM

পাঁচ লাখ টাকা দিয়েও বন্ধ হয়নি নি/র্যাত/ন, মুন্নীকে হ/ত্যার অভি/যোগ

ছবি:সংগৃহীত


মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নীকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর মুন্নির মরদেহ বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুন্নির বাবা হাজী মকবুল আলী ও মা রেনু বেগম এসব অভিযোগ করেন। তাঁদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নির খালাতো ভাই মাছুম আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশিদ লাভলুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে মুন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে গালিগালাজ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ পরিবারের। বিষয়গুলো মুন্নি নিয়মিত তাঁর বাবা-মা ও স্বজনদের জানাতেন। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে মুন্নি নির্যাতন সহ্য করেও সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠকও হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি মুন্নির ননদ, ভাসুর, জা ও শাশুড়ি বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। স্বামীর জন্য সৌদি আরবে গাড়ি কেনার কথা বলে ওই টাকা চাওয়া হয়। পরে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হলেও নির্যাতন ও টাকার চাপ বন্ধ হয়নি। বরং ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য আরও টাকা এনে দিতে মুন্নিকে চাপ দেওয়া হতো।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মুন্নি তাঁর বাবা-মাকে জানান, ননদ, ভাসুর, জা ও শাশুড়ি তাঁকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারেন। গত ২১ আগস্ট তাঁদের সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে মুন্নিকে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ সময় তিনি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে বাবা-মাকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে মুন্নির বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। পরে এক মুরব্বি ফোন করে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানান। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে একজন ফোন করে মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন।

পরিবারের দাবি, সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে মুন্নির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বাথরুমের দরজাও খোলা ছিল। উপস্থিত ব্যক্তিরা মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন বলে তাঁকে জানান।

তবে মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও মুন্নি নির্যাতনের কথা বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন দাবি করে পরিবার ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেছে। মরদেহ নামানোর পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এসব আঘাতের ছবি ও ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, মুন্নির মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার হয়নি। ওই ফোনে নির্যাতনের ভিডিও, খুদে বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। ফোনটি উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সহায়তা করবে বলে তাঁরা মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মুন্নির মরদেহ থানায় নেওয়ার পর কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ময়নাতদন্ত না করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে পরিবারের দাবির পর শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যেন কোনো ধরনের প্রভাবের কারণে প্রভাবিত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

একই সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও, মুন্নির মোবাইল ফোন, ভিডিও, খুদে বার্তা ও কলের তথ্যসহ সব আলামত সংরক্ষণ এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়।

মুন্নির বাবা-মা বলেন, ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্নজনের কাছে যাচ্ছেন তাঁরা। মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। গৃহবধূর মৃত্যুর লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ