নেপালে বন্যার পর নদীতে ভেসে আসছে ম/রদে/হ, ম/র্গে জায়গা নেই
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ PM

নেপালে বন্যার পর নদীতে ভেসে আসছে ম/রদে/হ, ম/র্গে জায়গা নেই

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯/০৮/২০২৬ ০৪:০৬:১৫ PM

নেপালে বন্যার পর নদীতে ভেসে আসছে ম/রদে/হ, ম/র্গে জায়গা নেই

এআই দিয়ে করা


নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষের মরদেহ কয়েকশ কিলোমিটার দূরের নদীতীরবর্তী এলাকাতেও উদ্ধার হচ্ছে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধারের ফলে হাসপাতালের মর্গগুলোতে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে কমিউনিটি হল, সরকারি ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র।

২৬ আগস্ট ভুটে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বন্যার পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। নদীতে ভেসে যাওয়া মরদেহ রাশুয়া ও নুওয়াকোট থেকে অনেক দূরে চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি, গোরখাসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান এলাকায়। ২৯ আগস্টের প্রতিবেদনে সেখানে ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নাওয়ালপারাসি ইস্টে উদ্ধার হয়েছে ১৫৪টি মরদেহ। এ ছাড়া গোরখা, ধাদিং, নুওয়াকোট, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি ওয়েস্ট ও রাশুয়াতেও বহু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোর মর্গে একসঙ্গে মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা রয়েছে। অথচ উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় ভারতপুরে একটি অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও মরদেহ সংরক্ষণে অতিরিক্ত স্থাপনা ব্যবহারের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

নাওয়ালপারাসি ইস্টেও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। জায়গা সংকটের কারণে মরদেহ পার্শ্ববর্তী পোখারা, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া ও পালপা এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। একটি কমিউনিটি ফরেস্ট হলও অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পোখারাতেও বিভিন্ন জেলা থেকে মরদেহ আসায় হাসপাতালের মর্গের সক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে বিভিন্ন জেলা থেকে চিতওয়ানসহ দুর্গত এলাকাগুলোতে ছুটে আসছেন পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই হাতে প্রিয়জনের ছবি নিয়ে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র ও হাসপাতালের সামনে অপেক্ষা করছেন। কারও মুখে উৎকণ্ঠা, কারও চোখে স্বজনকে ফিরে পাওয়ার শেষ আশার প্রতীক্ষা।

মরদেহ শনাক্ত করাও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে ও কাদায় থাকার কারণে বিকৃত হয়ে গেছে। ফলে চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ আঙুলের ছাপ, পোশাক, অলংকার, ট্যাটু এবং ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে। প্রয়োজন হলে ডিএনএ নমুনা কাঠমান্ডুতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

নেপালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট পর্যন্ত নদী এলাকা থেকে ৩৪৯টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছিল এবং ৩৩টি দেশের ৫৯৬ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়েছে। ২৯ আগস্ট রয়টার্স জানিয়েছে, নেপালে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৬২৬ এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতিকূল আবহাওয়া, ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক-সেতু এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে। একই সঙ্গে মরদেহ সংরক্ষণ ও দ্রুত শনাক্ত করা নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

নেপালের এই ভয়াবহ বন্যার পর নদীতে ভেসে আসা মরদেহ, স্বজনদের আহাজারি এবং অস্থায়ী মর্গে অপেক্ষার হৃদয়বিদারক দৃশ্য এখন দেশটির ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র হয়ে উঠেছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ