ছবি:সংগৃহীত
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন। নিজ নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকবে। কোনোভাবেই কাউকে নিপীড়িত হতে দেব না।’
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে সিলেট নগরের যুগলটিলাস্থ ইসকন মন্দিরে শ্রীশ্রী বলরাম জয়ন্তী, শ্রীশ্রী রাধা-মাধবের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠার চতুর্থ বর্ষপূর্তি ও ঝুলনযাত্রার সমাপনী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশের মানচিত্রের পরিবর্তন হলেও বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতিতে পরিবর্তন আসেনি। ১৯৪৭ সালের আগে যেমন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পাশাপাশি বসবাস করেছেন, পরবর্তী সময়েও সেই সম্প্রীতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এখনো মানুষ নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। কোনো অশুভ শক্তি যাতে সিলেটের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্ম ও বিশ্বাস পালনের অধিকার রয়েছে। কোনো ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না। সিলেট নগরে সব ধর্মের মানুষ যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সিটি করপোরেশন সে বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা শুধু রাষ্ট্র বা প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি মানুষেরও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ ও উন্নত নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রমে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সিলেটকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নগরের উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সিটি করপোরেশনের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ। সভাপতিত্ব করেন ইসকন বাংলাদেশের সহসভাপতি ও ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শ্রীশ্রী বলরাম জয়ন্তীর শিক্ষা ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দেবামৃত নিতাই দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, ইসকন বাংলাদেশের ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন বিভাগের চেয়ারম্যান হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস, রিসলভের চেয়ারম্যান যুগধর্ম দাস অধিকারী, ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির বিবাহ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্পাদক বলদেব কৃপা দাস অধিকারী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক বুদ্ধি গৌর দাস অধিকারী।
অনুষ্ঠানে ইসকন বাংলাদেশ ও সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় উৎসবের বিভিন্ন আয়োজন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় গৌর আরতি। এরপর রাত সাড়ে ৯টায় পরিবেশিত হয় মণিপুরি রাসনৃত্য। রাত ১২টায় অনুষ্ঠিত হয় লীলা-কীর্তন। এতে বালাগঞ্জের শ্রীশ্রী রাধা-শ্যামসুন্দর সম্প্রদায় পরিবেশনা করে। সার্বিক লীলা-কীর্তন পরিবেশন করেন রতিশ দাস।
ধর্মীয় আলোচনা, কীর্তন, গৌর আরতি, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শ্রীশ্রী বলরাম জয়ন্তী, শ্রীশ্রী রাধা-মাধবের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠার চতুর্থ বর্ষপূর্তি ও ঝুলনযাত্রার সমাপনী অনুষ্ঠান।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




