গুদাম ভে/ঙ্গে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৫ PM

গুদাম ভে/ঙ্গে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭/০৯/২০২৬ ০৪:৩০:৫৭ PM

গুদাম ভে/ঙ্গে  সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

সংগৃহিত


কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নে সার বিতরণে দেরি হওয়ার অভিযোগে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার নিয়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। আজ সোমবার সকালে বন্দবেড় বাজারের মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।

ডিলারের দাবি, গুদাম থেকে ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে সার লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বসুনিয়া। তাঁর দাবি, সার লুটের ভিডিওটি ভুয়া এবং বন্দবেড় ইউনিয়নে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রৌমারী উপজেলায় ৪২ হাজার কৃষক রয়েছেন এবং তাঁরা সবাই সঠিকভাবে সার পাচ্ছেন।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, আজ বন্দবেড় বাজারে সার বিতরণের কথা ছিল। কৃষকেরা গতকাল রোববার রাত দুইটা থেকে গুদামের সামনে এসে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিন্তু সকাল হলেও সার বিতরণ শুরু না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কৃষক গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে সার বের করছেন। কেউ মাথায় করে, আবার কেউ ভ্যানে করে বস্তা নিয়ে যাচ্ছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে নিয়ে যাওয়া সার ফেরত পাওয়া যায়নি।

গুদামে ৭৫০ বস্তা সার ছিল জানিয়ে মেসার্স মিতা হাসান এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নিতে লাইনে দাঁড়ান। কে আগে সার নেবেন, তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁরা থানায় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এ সুযোগে কৃষকেরা গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে ১০০ থেকে ১৫০ বস্তা সার নিয়ে যান।

পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় গুদামে থাকা বাকি সার বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান সাইফুল ইসলাম। বিতরণের হিসাব শেষ হলে কত বস্তা সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাওসার আলী বলেন, সকালে সার বিতরণের সময় পুলিশকে জানানো হয়নি। এ সময় কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ভূরুঙ্গামারীতে সড়ক অবরোধ, কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ

একই দিন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

আজ সকালে উপজেলার সোনাহাট এলাকায় সার বিতরণ শুরু হলে কৃষকেরা চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গেলে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার কোনো না কোনো ইউনিয়নে প্রতিদিন সার নিয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করছেন। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধও করছেন তাঁরা। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে প্রতিদিনই যেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগে কী পরিমাণ সার মজুত আছে এবং কৃষকদের চাহিদা কত, তা পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের সমস্যা কমত। কৃষি বিভাগ পর্যাপ্ত সার থাকার কথা বলছে, অথচ কৃষকেরা সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করছেন। এতে পুলিশের অন্য কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

জেলায় পর্যাপ্ত সার আছে বলে দাবি করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। আগাম ভুট্টা ও বেগুন চাষের জন্য কৃষকেরা বাড়তি সার মজুত করায় কোথাও কোথাও সাময়িক সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। সমন্বয়ের মাধ্যমে সার বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর আগে গতকাল রোববার সার দিতে দেরি হওয়ার অভিযোগ তুলে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা বাজারে এক পরিবেশকের গুদামে ভাঙচুর করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। ওই দিনও সারের দাবিতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সড়কে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। এ ছাড়া লালমনিরহাটেও একই দাবিতে সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

গত ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে এক ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে ১১৫ বস্তা সার ফেরত দেন তাঁরা।

ওই ঘটনায় ধলডাঙ্গা বাজারের সারের ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ক্যাশমেমোতে অসংগতির অভিযোগ ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ