আজমিরীগঞ্জে ৫০ শয্যার আধুনিক ভবন, সেবা মিলছে ৩১ শয্যার
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৯ AM

বাক্সবন্দি যন্ত্রপাতি নষ্ট, চিকিৎসক-নার্সসহ ১৬ পদও শূন্য

আজমিরীগঞ্জে ৫০ শয্যার আধুনিক ভবন, সেবা মিলছে ৩১ শয্যার

আশিকুর রহমান, আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪/০৯/২০২৬ ১১:৩২:২৯ PM

আজমিরীগঞ্জে ৫০ শয্যার আধুনিক ভবন, সেবা মিলছে ৩১ শয্যার

ছবি:সংগৃহীত


হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চল আজমিরীগঞ্জের লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা আধুনিক ভবন। সেখানে রয়েছে অপারেশন থিয়েটার, এক্স-রে, পুরুষ ও গাইনি ওয়ার্ড, কেবিনসহ নানা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। তবে ভবন নির্মাণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা। বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নতুন ভবন থাকলেও পুরোনো ৩১ শয্যার জনবল ও সুযোগ-সুবিধা দিয়েই চলছে চিকিৎসাসেবা।

হাওরবেষ্টিত দুর্গম এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন নানা বয়সী রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

হাসপাতালে ৫০ শয্যার জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও সেখানে আলাদা পুরুষ ও গাইনি ওয়ার্ড, কেবিন, অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে সুবিধাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। কিন্তু এসব সেবা এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল্যবান বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম দীর্ঘদিন বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এদিকে রোগীদের সেবার জন্য নতুন ভবনের তৃতীয় তলা ব্যবহার করা না হলেও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তৃতীয় তলা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদেরও সিঁড়ি বেয়ে তৃতীয় তলায় উঠতে হচ্ছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এই হাসপাতালে কোনো ধরনের ব্লাড পরীক্ষা নেই, ইসিজি নেই, তেমন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। সামান্য পেটব্যথা একটু বেশি হলেই রোগীকে হবিগঞ্জে রেফার করা হয়। রোগী আছে অনেক, কিন্তু ডাক্তার কম।’

অন্য এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতালের এমন অবস্থা যে হাত-মুখ ধোয়ার জায়গাগুলোর কোনো ট্যাপেই পানি নেই।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো ৩১ শয্যার অনুমোদিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা দিয়েই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। চিকিৎসক ও নার্সের সংকট সবচেয়ে বেশি। ১৯টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৮ জন। ২৫টি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের বিপরীতে আছেন ৯ জন। এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে আরও ১৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি চেয়ে ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘৫০ শয্যার আলোকে জনবল পদায়ন ও অন্যান্য লজিস্টিক নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রশাসনিক অনুমোদনের পর পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে। এখন পর্যন্ত আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যার সেবা চালু আছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, হাওরবেষ্টিত দুর্গম এই জনপদের লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, বাক্সবন্দি যন্ত্রপাতি চালু এবং ৫০ শয্যার হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালের অবকাঠামো ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ