গোলাপগঞ্জে সেতুর কাজ বন্ধ : দু র্ভো গে ৩ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৮:০৫ PM

গোলাপগঞ্জে সেতুর কাজ বন্ধ : দু র্ভো গে ৩ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ

মো. বদরুল আলম, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬/০৫/২০২৫ ১০:২৩:১৭ AM

গোলাপগঞ্জে সেতুর কাজ বন্ধ : দু র্ভো গে ৩ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ

ছবি: নিজস্ব


সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার সংযোগ সড়কের কুশিয়ারা নদীর উপর শিকপুর বহরগ্রামে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি কাজ এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধিদফতর ও স্থানীয়দের রশি টানাটানিতে সেতুটির কাজ বন্ধ থাকায় গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বড়লেখা- এই ৩ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। 

জানা গেছে, স্বপ্নের এই সেতুটির কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়রা শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার মানুষজন, প্রসুতি রোগী, শিক্ষার্থীসহ চাকরিজীবীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ অঞ্চলের মানুষজন জেলা শহরে বিকল্পভাবে যাতায়াত করতে হলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে প্রসুতি রোগীসহ জটিল রোগীরা বিপাকে পড়ছেন। ১ হাজার ১৬৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটির কাজ ১ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখার কারণে মানুষজনের দুর্ভোগের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেননা স্থানীয় বাজার থেকে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন অন্য অঞ্চলে বিকল্পভাবে যেতে হলে বেশ কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এই সুযোগে চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। 

সংশ্লিষ্ট অধিদফতর বলছে, স্থানীয়রা ভ‚মি অধিগ্রহণের টাকা প্রদানসহ পুনরায় সার্ভে করার দাবি তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক আবেদন করেছেন। এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট অধিদফতর ও জেলা প্রশাসকের খামখেয়ালীর কারণে ভ‚মি অধিগ্রহণের টাকা প্রদান না করে সেতুর কাজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সিলেটের জেলা প্রশাসক সমস্যাটি নিরসন করে সেতুর কাজ দ্রুত চালু করার দাবি জানান দুই উপজেলার সচেতন ও অভিজ্ঞ মহল। 

এদিকে দ্রুত কুশিয়ারা নদীর উপর সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জে দফায় দফায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। 

বড়লেখা, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জবাসীর সহজ যোগাযোগের জন্য কুশিয়ারা নদীর উপর বহরগ্রাম-শিকপুর সেতুর নির্মাণকাজ চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শুরু করে এবং ২০২৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সম্পন্ন করার নির্দেশ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রæয়ারি শুরু হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্তাবধানে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাক্কলিত এই প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। তবে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের কোনো অর্থ প্রদান করা হয়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা সেতুর কাজ এগিয়ে নিতে আপত্তি জানান। 

স্থানীয় সমাজকর্মী হাফিজুর রহমান জানান, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সিলেটের জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। দ্রুত এর সুরাহা হওয়া প্রয়োজন। 

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্তাবধানে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাক্কলিত এই প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য খরচসহ ২২ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে স্থানীয় এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। তিনি জানান, উক্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এ যাবৎ সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে জমি মালিকদের কোনো টাকা প্রদান করা হয়নি। এতে জমির মালিকেরা সেতুর কাজ এগিয়ে নিতে আপত্তি জানান। পাশাপাশি সেতুটি পুনরায় সার্ভের জন্যও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয়রা জানান, এক সময়ের ব্যস্ততম সিলেট-গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সংযোগ সড়কের বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরি দিয়ে হাজারো মানুষ যানবাহনের মাধ্যমে যাতায়াত করলেও এখন ফেরি না থাকায় আর ছোট-বড় গাড়ি এপার-ওপার হয় না। প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে চন্দরপুর-সুনামপুর সেতু হওয়ায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ক্রটিসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ২০১৫ সালে হঠাৎ করে বহরগ্রাম-শিকপুর ফেরিঘাটটি বন্ধ করে দেয়। ফলে এ রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে প্রায় ১০ বছর ধরে এলাকার মানুষসহ তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ সেতুর অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। আর নদীর পাড়ে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি টাকা মূল্যের পল্টুন। এখন স্থানীয় লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ডিঙি নৌকা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর উপর সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের ভ‚মি অধিগ্রহণের টাকা প্রদান ও পুনরায় সার্ভে করে সেতু নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন। বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে শিগগিরই সেতুটির কাজ শুরু হবে।

জৈন্তাবার্তা / সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ: