ছবি নিজস্ব
সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নিত করার কাজ ধীরগতিতে চলার কারণে চালক ও যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর থেকে নাজিরবাজার পর্যন্ত মহাসড়কের কাজ দীর্ঘদিন আগে হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এতে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনাও।
জানা গেছে, মহাসড়কের পাশে সরকারি জায়গার উপরে থাকা স্থাপনাগুলো অপসারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও মালিকদের পুনর্বাসন কাজ প্রায় শেষের দিকে। মালিকানাধীন জায়গার কিছু অংশ অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও বেশিরভাগ ভূমি অধিগ্রহণের দীর্ঘসূত্রিতায় ঝুলে আছে মহাসড়কের ধারাবাহিক কাজ। ভূমি অধিগ্রহণে একটি চক্র জায়গার মালিকদের সাথে যোগসাজশ করে জমির ধরন ও ভবনের প্রকৃত ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে মূল্য বাড়িয়ে সরকারের কাছ থেকে আদায় করে নিতে চাইছে কোটি কোটি টাকা। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মহাসড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
অনেকে মনে করছেন, মহাসড়ক উন্নয়ন কাজে সংশ্লিষ্টদের সাথে উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা যুক্ত থাকলে তাদের মাঠ পর্যায়ের দক্ষতায় উন্নয়ন কাজ আরও টেকসই হতো। স্থানীয় প্রশাসন যুক্ত না থাকায় কাজের প্রকৃত গুণগত মান ঠিক হচ্ছে কি না তা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণ কেউ জানে না। এতে এতো বড় কাজে দুর্নীতি করার সুযোগ থেকে যায় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
জানা গেছে, মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার সীমানায় শেরপুর থেকে নাজিরবাজার পর্যন্ত রয়েছে প্রায় ২৩ কিলোমিটার রাস্তা। এই অংশে অন্তত দুই ডজন সেতু ও কালভার্টের আংশিক কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। বিগত সময়ে মহাসড়কের যে সকল স্থানে সেতু ও কালভার্ট ছিল, সে সকল স্থানে পুনরায় নতুন করে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। আগে মহাসড়কের দুই পাশে ফসলি জমিসহ পানির নিষ্কাশনের খালও ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অনেক কালভার্টের আশপাশে মানুষের প্রয়োজনে কৃষিজমি ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে বসতবাড়ি, মার্কেট, ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। এ অবস্থায় এলাকায় বন্যা হলে উজান থেকে নেমে আসা পানি মহাসড়কের পূর্ব পাশে আটকা পড়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের কালভার্ট নির্মাণের কারণে পানি আটকা পড়ে সৃষ্টি হয় বন্যা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দুই ডজন কালভার্টের মধ্যে বেশ কয়েকটি কালভার্টের পূর্ব ও পশ্চিমে পানি নিষ্কাশনের খাল নেই। দুই পাশেই রয়েছে বাসা-বাড়ি। একসময় এসব কালভার্ট দিয়ে পানি চলাচল করলেও এখন ভিটা-বাড়ি, মার্কেটসহ অন্যান্য স্থাপনা তৈরি এবং কোনো খাল না থাকায় বর্তমানে নির্মাণাধীন অনেক কালভার্ট কোনো উপকারে আসবে না। এছাড়া সেতু ও কালভার্টগুলোর গভীরতা কম থাকায় বন্যার সময় ভোগান্তিসৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
দয়ামীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ কালভার্ট ছোট এবং গভীরতা কম। এতে জলাবদ্ধতা হতে পারে। বন্যার সময় এলাকাবাসী ভোগান্তিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। কাজগুলো সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে দ্রুতর বাস্তবায়নের দাবি জানাই।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক উদয়ন চক্রবর্তী বলেন, জায়গা অধিগ্রহণ হলে আমাদের জানানো হয়। যেগুলো সম্পন্ন হয়েছে সেখানে কাজ চলমান রয়েছে। সেতু ও কালভার্ট দেবে যাবে কি না, সেটি বুঝতে আমাদের টেস্টিং চলছে। সেতু ও কালভার্টগুলো নকশা মেনে করা হচ্ছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, মহাসড়কের কাজ রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ দেখে। কোনো বিষয়ে কেউ আমাদের অবহিত করলে আমরা তাদেরকে জানিয়ে দেই। অধিগ্রহণের কাজটি জেলা প্রশাসন থেকে করা হচ্ছে।
সিলেট অংশের মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেবাশিষ রায় বলেন, এখানে তিনটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি কাজ করছে। সেতু ও কালভার্টগুলো পরিকল্পনা করেই তৈরি করা হচ্ছে। যেসব স্থানে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, সেসব স্থানে আগেই তা ছিল। বর্তমানে যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানে দেতু বা কালভার্ট নির্মাণের বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। যেখানে পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হবে, সেখানে জমি অধিগ্রহণ করে পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি করে দেয়া হবে। জমি অধিগ্রহণের কাজে বিগত সময়ের তুলনায় গতিশীলতা বেড়েছে। চলতি বছরের মধ্যে ভ‚মি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হলে ৩ বছরের মধ্যে মহাসড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আমি আশাবাদী।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, সেতু ও কালভার্টের ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন। চলতি বছরের মধ্যে মহাসড়কের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




