ফাইল ছবি
সিলেটি নাগরি পুঁথির জনপ্রিয় পাঠক আলী আসহাব আর নেই। রবিবার সকাল সাড়ে সাতটায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় গ্রামে তার নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স ছিল পঁচাশি বছর।
বৃদ্ধ বয়সে চশমা ছাড়া সুরেলা কণ্ঠে সিলেটি নাগরি হরফে লেখা প্রাচীন পুঁথি পাঠ করে তিনি অনেকের নজর কাড়েন। তিনি বিভিন্ন টেলিভিশনে, বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসব, জাতীয় হাওর উৎসব সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাগরি পুঁথি পাঠ করে বিলুপ্ত প্রায় নাগরি পুঁথিকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতে ভূমিকা রাখেন। আলী আসহাব দুই পুত্র এক কন্যা সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। রবিবার বিকেলে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
নাগরি পুঁথি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। মাত্র কিছুসংখ্যক পাঠক এখনো নাগরি পুঁথি পাঠ করতে পারেন।
উল্লেখ্য সিলেটি ভাষার লিপি বা অক্ষর হল নাগরি। একসময় বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছিল নাগরি বর্ণমালা। কয়েকশ বছর আগে নাগরি লিপিতে রচিত হয়েছে শত শত সাহিত্য, গ্রন্থ, দলিল। তখন মানুষজন চিঠিপত্রও লিখতেন নাগরি বর্ণমালায়।
চতুর্দশ শতকে ৩৬০ সফরসঙ্গী নিয়ে সিলেটে আসেন হজরত শাহজালাল (রহ.)। তখন তার সফরসঙ্গীদের মাধ্যমে সিলেটে নাগরি লিপির প্রচলন ঘটে। তৎকালীন ইসলামি নানা কাহিনী, সুফিবাদ ও ফকিরি গান নাগরিলিপিতে পুঁথি রূপে বের করা হয়। নাগরি লিপির অবিচ্ছেদ্য অংশ হল হজরত মোহাম্মদের (সা.) জীবনীভিত্তিক কোনও গ্রন্থ ‘কেতাব হালতুননবী’।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




