ছবি: নিজস্ব
কাজী হিসেবে লাইসেন্স চেয়ে চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন গোয়াইনঘাটের মাতুরতল বাজারের রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা মো. জাকারিয়া। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নে কাজী নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া সত্তে¡ও শুধু রাজনৈতিক কারণে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে জাকারিয়া বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সিলেট মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলের নাম ভাঙ্গিয়ে এমন অপকর্ম করেছেন। বর্তমান কাজী রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুশ শাকুরকে কাজী হিসেবে নিয়োগ দিতে তারা বাধ্য করেছে। অথচ, আব্দুশ শাকুর লিখিত পরীক্ষায় ৫ নম্বর পেয়ে ১০ম হয়েছিলেন। ওই নিয়োগ পরীক্ষায় ৫০ এর মধ্যে তিনি ৩৮ পেয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা আব্দুশ শাকুরের পক্ষ নেয়ায় যোগ্যতার প্রয়োজন হয়নি। যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও তাকে বঞ্চিত করে আব্দুশ শাকুরকে কাজী করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া আরো জানান, কাজী হিসেবে লাইসেন্সের আবেদন করে যেন এক মহা অপরাধ করেছিলেন তিনি । ফ্যাসিস্টরা মামলা, হামলার হুমকি এমনকি পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে তাকে অনেকটা জিম্মি করে এবং তদন্তের নামে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়ম অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্ত প্যানেল ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তখন জানতে পারেন পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আলিম উদ্দীন এবং গেয়াইনঘাট আওয়ামী যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আহমেদ মোস্তাকিন তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ বিরোধী, বিএনপি জামাত বলে প্রচারণা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ উলামা পরিষদ এর ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন শাখার সভাপতি হওয়ায় তাকে বিএনপি-জামাত অপবাদ দিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটিতে জমা দেয়। একপর্যায়ে সাব রেজিষ্ট্রার মাহবুবের রহমান ওয়াজেদ দুই দিন পর একটি প্যানেল রেডি করলেও আলিম উদ্দিন ও মোস্তাকিন দলীয়ভাবে চাপ প্রয়োগ করে ওই প্যানেল বাতিল করে পুণরায় নতুন প্যানেল তৈরি করে পাঠাতে বাধ্য করেন। এছাড়া, পরীক্ষা পূর্ব থেকেই বর্তমান কাজীর পক্ষ থেকে কারান্তরীন দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ইমরান আহমদের পিএস সাইফুলের মাধ্যমে মন্ত্রীর ডিও লেটার আনা ও নিয়োগ পেতে ১৫ লক্ষ টাকার চুক্তির কথা প্রচার করা হয়। তখন সেটাকে গুজব মনে করলেও শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্য হয়। তিনি এসব বিষয়ে কথা বলতে ইমরান আহমদের সাথে সাক্ষাৎকরতে গেলে পিএস তাকে সুেেযাগ দেয়নি বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আেেরা জানান, গোয়াইনঘাট থানার সৌরভ নামের তৎকালীন এক সাব ইন্সপেক্টর তাকে জামাত শিবিরের মামলায় জড়ানোসহ নানাভাবে হুমকি দিয়েছেন। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও নিজের নিরাপাত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে পারেননি। অযোগ্য ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগে নিয়োগ প্রাপ্ত কাজীর নিয়োগ বাতিল করে তার যোগ্যতার মূল্যায়নের দাবি জানান মাওলানা জাকারিয়া।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




