ওসমানীনগরে বন্ধ সেতুর কাজ, দু*র্ভোগে মানুষ
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৯:১৫ PM

ওসমানীনগরে বন্ধ সেতুর কাজ, দু*র্ভোগে মানুষ

আতাউর রহমান কাওছার, ওসমানীনগর

প্রকাশিত: ১৮/০৭/২০২৫ ০২:৫৩:২৭ PM

ওসমানীনগরে বন্ধ সেতুর কাজ, দু*র্ভোগে মানুষ

ছবি নিজস্ব


সিলেটের ওসমানীনগরে বুড়ি নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ এক বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। গ্রামবাসী সংশ্লিষ্টদের অবগত করলেও কারপ টনক নড়ছে না। অন্যদিকে, ইতোপূর্বে সেতুতে নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামস্থ বুড়ি নদীর ওপর সেত্য নির্মাণের জন্য গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে টেন্ডার হলে কাজ পায় আয়ান এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর পর কিছু অংশের কাজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দের ৪০ শতাংশ টাকা উত্তোলন করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। আবার কাজ শুরু করলেও গত বছর বর্ষার পানি আসার অজুহাত দেখিয়ে আবার কাজ বন্ধ করে রাখা হয়। এরপর এবারের শুকনো মৌসুম চলে গিয়ে আবার বর্ষার মৌসুম চলে এলে আবারও কিছু কাজ করে কাজটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ অবস্থায় সেতুটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন গ্রামবাসী। তাই তারা কাজটি আবার দ্রুত শুরু করার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দৌলতপুর গ্রামের সাথে গজিয়া, ফকিরাবাদসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে। বর্ষা মৌসুমে দৌলতপুর গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যেতে নৌকা ও সাঁকো ব্যবহার করে। এতে তাদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এই সেতুটি নির্মাণ হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে।

দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল দত্ত, অঞ্জন দাস, সুবেন্দ্র দাস, ছাদিক মিয়া ও প্রাণেষ দাস বলেন, সেতুটি আমাদের গ্রামের একমাত্র চলাচলের মাধ্যম। শুকনো মৌসুমে সাঁকো আর বর্ষার দিনে নৌকা দিয়ে আমাদের পারাপার হতে হয়। ঠিকাদার কাজ পাওয়ার পর থেকে নিম্নমানের কাজ করছেন। আমরা কাজটির মান ভালো করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রশাসনের প্রতি আমাদের দবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি যেন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করেন।

এ ব্যাপারে জানতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আয়ান এন্টারপ্রাইজের কর্তৃপক্ষের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, আমি ঠিকাদারের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য। ঠিকাদার ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ বিল উত্তোলন করেছেন।

পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী চৌধুরী সুমন বলেন, এখানে সেতু স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেকবার কথা বলেছি। সেতুটির কাজ শেষ না হওয়ায় মানুষের অনেক দুর্ভোগ হচ্ছে। কাজটি দ্রুত সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবো।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, কাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দিয়েছি।

জৈন্তা বার্তা/আরআর