দীর্ঘদিন বিরতির পর সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুনরায় চালু হয়েছে সিজারিয়ান (সি-সেকশন) সেবা। এর ফলে স্থানীয় প্রসূতি মা ও তাদের পরিবারের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুনরায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। মা ও নবজাতক দু’জনই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
অপারেশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এন. ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক। পুরো মেডিকেল টিমের নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের গাইনি কনসালট্যান্ট ও জৈন্তাপুরের জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. সংগীতা দেবী।
এনেস্থেসিয়া বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ডা. জনি লাল দাস। সহযোগিতায় ছিলেন ডা. আফরিন জাহান আইয়ুব, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বোরহান আহমদ রানা। এ ছাড়াও মেডিকেল অফিসার ডা. হিল্লোল সাহা, ডা. সুজয় চৌধুরীসহ সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফ, আয়া এবং অন্যান্য কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্থানীয়রা জানান, জৈন্তাপুরের অনেক গর্ভবতী মাকে পূর্বে সিজারিয়ান সেবার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হতো। পুনরায় এই সেবা চালু হওয়ায় সময়, খরচ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এন. ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক বলেন, জৈন্তাপুরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা সিজারিয়ান সেবা পুনরায় চালু করতে সক্ষম হওয়ায় আমরা আনন্দিত। এখন থেকে উপজেলার গর্ভবতী মায়েরা নিজ উপজেলাতেই নিরাপদ মাতৃসেবা গ্রহণ করতে পারবেন। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। সকলকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সরকারি হাসপাতালের সেবা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি জানান, জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনি বহির্বিভাগে নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে সেখানে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
জৈন্তাবার্তা / আরআর




