গোলাপগঞ্জে নিরপরাধ যুবককে মা*মলায় ফাঁ*সানোর দাবি
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ০৮:৫৩ PM

গোলাপগঞ্জে নিরপরাধ যুবককে মা*মলায় ফাঁ*সানোর দাবি

মো. বদরুল আলম, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৯/০৭/২০২৫ ০৩:০০:৪৪ PM

গোলাপগঞ্জে নিরপরাধ যুবককে মা*মলায় ফাঁ*সানোর দাবি


জিল্লু হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের মাইনুল ইসলাম শুভকে। অথচ ঘটনার দিন ৫ জুন (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১২টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত সিলেট নগরীর শিবগঞ্জস্থ ফাওযান ফার্মা নামক ফার্মেসিতে কর্মরত ছিলেন শুভ। মামলাটিতে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন অভিযোগ করেন মাইনুল ইসলাম শুভর মা মা মিনারা বেগম।

তিনি বলেন, আমার ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভ ভাদেশ্বর মোকাম বাজারস্থ জিল্লু রহমানের মালিকানাধীন তাসনুবা ফার্মেসিতে দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে চাকরির পাশাপাশি জিল্লু রহমানের অনুরোধে তার ছোট মেয়েকে বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়াতো। এ কারণে আমার ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভ ও জিল্লু রহমানের পরিবারের মধ্যে সম্পর্ক খুবই ভালো ছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে জিল্লু রহমান আমার ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভকে বেতন দেয়া নিয়ে গড়িমসি করতে থাকলে আমার ছেলে শুভ তার ফার্মেসিতে চাকরি করবে না বলে জানায়। এ কারণে জিল্লু রহমান আমার ছেলেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন। শুভ তার মেয়েকে প্রাইভেট না পড়ালে তার মেয়ের লেখাপড়ার ক্ষতি হবে বলে জানান এবং তার ফার্মেসিতে কাজ করতে চাপ দিতে থাকেন। তা না হলে আমার ছেলের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে এর প্রতিশোধ নেবেন বলে হুমকি দেন। আমার ছেলে বাড়িতে এসে আমাকে এবং তার ভাই-বোনদেরকে এ ঘটনা জানায়।

তিনি দাবি করেন, তাসনুবা ফার্মেসিতে চাকরি না করা ও মেয়েকে প্রাইভেট না পড়ানোর কারণে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে মামলায় আমার ছেলেকে জড়ানোন হয়েছে। আমার ছেলে কোনো অবস্থাতেই এই ঘটনার সাথে জড়িত নয়। শুধু তাই নয়, আমার ছেলে ফার্মেসি থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে চলে আসার কথা বলার পর থেকে তাকে বিভিন্ন ধরনের চাপসহ হুমকি দিতে থাকেন জিল্লু রহমান।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভ তার চাচাতো ভাইয়ের সিলেট নগরীর শিবগঞ্জস্থ ফাওযান ফার্মা নামের ফার্মেসিতে গত ৩০ মে কাজে যোগদান করে। ৩০ মে থেকে ৬ জুন রাত ১২টা ৫৭ মিনিট পর্যন্ত সে সেখানে কর্মরত ছিল, যা ফাওযান ফার্মার মালিকের বক্তব্য ও ফার্মেসির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রমাণ করে। অথচ জিল্লু রহমান তার মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, ৫ জুন রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে জিল্লু রহমানকে হত্যাচেষ্টার ঘটনাটি আমার ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভসহ তার ভাইয়েরা ঘটিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভ মিথ্যা অপবাদে জেলে থাকায় আমি বা আমার পরিবার বর্তমানে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করিতেছি। আমাদের ধারণা তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে পারিবারিক বিবোধ ও আমার ছেলের বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় পক্ষ কে বা কারা এই ঘটনা ঘটাইয়াছে। আমি মনে করি মাইনুল ইসলাম শুভ এর উপর জিল্লু রহমান সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ও গভীর ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা মূলক ভাবে ঘটনার সাথে জড়াইয়াছে। তাছাড়া মাইনুল ইসলাম শুভ সিলেটস্থ শিবগঞ্জের ফাওযান ফার্মা ফার্মেসী কর্মরত থাকা অবস্থায় ফার্মেসীর সিসি ক্যামেরার

তিনি বলেন, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমার নির্দোষ ছেলে মাইনুল ইসলাম শুভসহ তার ভাইদেরকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহিত দেওয়ার জোর দাবি জানাই।

জৈন্তা বার্তা/আরআর