গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ির মুড়াকচুর হাট
সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১০:০০ PM

গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ির মুড়াকচুর হাট

মো. বদরুল আলম, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩/০৪/২০২৫ ০১:৩১:৩৩ AM

গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ির মুড়াকচুর হাট

ছবি নিজস্ব


সিলেটের গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি বড়মোকামে সিলেট-জকিগঞ্জ রোডের পাশে নিয়মিত বসছে মুড়াকচুর হাট। দেখলে মনে হয় যেন একটি ছোট কচুর বাজার। মুড়া কচুর জন্য ফুলবাড়ি দীর্ঘকাল থেকেই পরিচিত। ফুলবাড়ির মুড়া কচুর নিজস্ব গুণেই এ পরিচয়। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ফুলবাড়িতে মুড়া কচুর ফলন হয়েছে ব্যাপক। মুড়া কচু ও কচুর লতি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক কৃষক। কেউ কেউ বংশ পরম্পরায় এ পেশায় রয়েছেন দীর্ঘদিন থেকে। এই হাটে শুধু মুড়া কচু নয়, সেখানে কচুর লতি, কচুর ফুল ও কচু কিনতে দেখা যায় মানুষের দীর্ঘ লাইন।

সিলেটের অনেক বাজারেই মুড়া কচু পাওয়া গেলেও ফুলবাড়ির বড় মোকামে নিয়মিত বসে মুড়া কচুর হাট। বড় মোকাম জামে মসজিদের কাছেই সিলেট-জকিগঞ্জ রোডের পাশে নিয়মিত বসে এই মুড়া কচুর হাট। সকাল থেকে শুরু হয় বেচাকেনা।

ফুলবাড়ির মুড়া কচুর হাটের অন্যতম ব্যবসায়ী সুলতান আহমদ এ পেশার সঙ্গে জড়িত প্রায় ৬ বছর থেকে। বর্তমানে কচুর দাম কিছুটা কম হলেও কচুর লতি বিক্রি করে ভালো আয় হচ্ছে তার। কারণ মুড়া কচু মাস দুয়েক পর থেকে লতা দিতে থাকে এবং মুড়া কচুর চেয়ে তখন লতার মূল্য বেশি পাওয়া যায়।

তিনি জানান, বর্তমানে মুড়া কচুর হালি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা ও কচুর লতি প্রতি আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। কষ্টের তুলনায় দাম কম পাওয়ায় দিন দিন এ পেশা থেকে মানুষের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। একসময়ে ফুলবাড়ি গ্রামে অনেকে কৃষক মুড়া কচুর চাষ করলেও বর্তমানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন কৃষক এই কচু চাষের সঙ্গে জড়িত আছেন।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে মুড়া কচুর উৎপাদন অন্য এলাকার চেয়ে তুলনামূলক বেশি। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অপেক্ষাকৃত নিচু, ডোবা দোআঁশ ও পলি দোআঁশ মাটিতে মুড়া কচু উৎপাদিত হয়ে থাকে। অনেক কৃষক বেশি মূল্যে বিক্রি করার লক্ষ্যে চারা রোপণ করেন কার্তিক মাসে। তাঁদের এই চারা বিক্রির উপযোগী হয় তিন-চার মাস পর। অর্থাৎ তারা বৈশাখেই বাজারে তোলেন মুড়া কচু। সে সময় তুলনামূলক দাম একটু বেশি পাওয়া যায়। সিলেটের বাজারে আষাঢ় মাস পর্যন্ত এসব মুড়া কচু পাওয়া যায়।

জৈন্তা বার্তা/আরআর