ছবি: নিজস্ব
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ সিলেট বিভাগীয় জেলা শাখার উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মে দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ০১ মে বিকেলে সিলেট জেলার শাখার কার্যালয়ে বাংলাদেশ কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক মোঃ আবুল কালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ইসমাইল মিয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন,সরকারি কর্মচারীরা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা যদি সঠিক জায়গায় সঠিক সময়ে ফাইল উপস্থাপন না করে তাহলে সরকারি সেবা বাধাগ্রস্ত হবে। দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ না করলে সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ মানুষ। তারা সঠিক সময়ে দায়িত্বশীলতার সহিত সঠিক কাজটি করে বিধায় প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ মানুষকে সরকারি সেবাটা সহজে দিতে পারেন। কর্মচারীদের এই কাজের সহযোগিতা কোনভাবে খাটো চোখে দেখার মত কোন সুযোগ নেই। কিন্তু পরিতাপের বিষয় দ্বৈত নীতির কারণে সরকারি কর্মচারীরা সরকারের অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আউটসোর্সিং এর খপ্পরে পড়ে তারা পরিশ্রমের প্রাপ্য মূল্যায়নে ও সামাজিক অবস্থানে পিছিয়ে রয়েছে। তাই তারা তাদের ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ে আন্দোলন মুখি হতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক মর্মান্তিক। বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের কর্মচারীদের ন্যায্য প্রাপ্য সুবিধাটুকু দিতে বর্তমান সরকার সুদৃষ্টি দিবেন, তিনি এই প্রত্যাশা করেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া মিডিয়া তুলে ধরার জন্য সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপত মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠায় ও ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায়ে ঐক্যের বিকল্প নেই। এই পর্যন্ত শ্রমিকদের উন্নয়নে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা শ্রমিকদের আত্মত্যাগের ও আন্দোলনের ফসল। ঐক্যের সাথে থেকে আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায় করতে হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কাজের অধিকার সুরক্ষা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকরাই সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ। শ্রমিকের স্বার্থ ও কল্যাণের দিক অবহেলা করে সত্যিকার উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি দুঃখের সাথে বলেন,ছোট পরিসরের কোন রাজনৈতিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিকতাকে মিডিয়ায় যেভাবে ফোকাস করে তুলে ধরে,কর্মচারীদের বেলায় তা কিন্তু হয় না। আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম ও দাবি দাওয়ার বিষয়গুলা মিডিয়ায় তেমন একটা ফোকাস পায় না।যার কারণে আমরা আরো পিছিয়ে পড়ি। মিডিয়া যদি আমাদের ন্যায্য দাবীর বিষয়গুলো ভালোভাবে ফলাও করে তুলে ধরে তাহলে সরকারের চোখে পড়বে টনক নড়বে। সুবিধাবঞ্চিত সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে সহজ হবে। সর্বশেষ তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায় করতে গিয়ে যারা আত্মাত্যাগ করেছেন তাদের স্মরণ করে রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। আন্দোলন সংগ্রামে সংগঠনর নেতৃবৃন্দ দায়িত্বশীল ও সদস্যবৃন্দকে ঐক্য থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ চর্তুথশ্রেণী (১৭-২০) সরকারি কর্মচারি সমিতি কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোক্তার হোসেন,বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি, সিলেট জেলা শাখার সভাপতি দেবাংশু ভট্টাচার্য।
আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ, ময়মনসিংহ বিভাগীয় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহিন মিয়া, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ সুলতান মিয়া,বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন,
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ, হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মঃ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারী কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ, বিভাগীয় চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মানিক মিয়া, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ বিভাগীয় সিলেট জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মোঃ লুৎফুর রহমান,যুগ্ন আহবায়ক শামীম আহমদ প্রমুখ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ।
জৈন্তাবার্তা / রহমান




