ছবি: নিজস্ব
অকাল বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি এড়াতে দীর্ঘদিন থেকে আগাম জাতের ধান ব্রি–২৮ চাষ করেন কৃষকেরা। তবে এবার ব্রি-২৮ চাষ করে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষক লোকমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের পাইকরাজ গ্রামের কৃষক লোকমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রি-২৮ ছড়ায় এবার ধানের বদলে চিটা দেখা গেছে। তিন কিয়ার জমিতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা বাকী রইল ধান কাটার মুজরী ও নিজের পারিশ্রমিক। যে ধান পাবেন সেটা দিয়ে কোনরকমে খরচ পোষাবে। আনুষঙ্গিক অন্য সব কিছু লোকসানের পড়বে।
তিনি বলেন, এ বছর জমিতে ব্রি–২৮ লাগিয়ে হতাশ হয়েছেন অনেক কৃষক। উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ও আগাম জাত হওয়ায় উপজেলার হাওরাঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে ব্রি-২৮ ধান চাষ জনপ্রিয় হয়েছে। অকাল বন্যা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়িয়ে আগে ফসল ঘরে তুলতে অধিকাংশ কৃষক জমিতে ব্রি–২৮ রোপণ করেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে এই দুই জাতের ধান দীর্ঘদিন থেকে আবাদ হওয়ায় ও ব্লাস্টার এবং ঠান্ডা জনিত রোগের কারণে ব্রি-২৮/২৯ জাতের ধান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। যার জন্য এজাতীয় ধান আবাদ করে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
কৃষক লোকমান জানান, তিন কিয়ার জমিতে ব্রি–২৮ ধান লাগিয়েছিলেন। যেখানে কিয়ার প্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার কথা সেখানে তিন কিয়ার জমিতে ৬ কাটা ধান পাবেন। বেশির ভাগ ধান চিটা হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। ধান গাছের ছড়ায় ধান না থাকায় কেউ ধান কাটতেও রাজি হচ্ছে না।শেষ পর্যন্ত হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন আদর্শ কৃষক, ওয়ার্ড সদস্য বিলাল মেম্বার বলেন,বিগত কয়েক বছর যাবত ব্রি ২৮ ও ২৯ জাতের ধান চাষ না করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কৃষকরা বীজ ধান দামে কম পাওয়ায় ও ভালো ফলন এবং আগাম ধান কাটার আশায় কোন কোন কৃষক এই জাতের ধান চাষ করে থাকেন। কৃষক লোকমান ও এই আশায় চাষ করে লোকসানের মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন বীজঘর থেকে ডিলার মালিকরা যদি কৃষকদের কাছে এই জাতের বীজ বিক্রি না করে ক্রয় না করতে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করে তাহলে কৃষকরা এই জাতের ধান আবাদ করা থেকে ফিরে আসবে।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির আওতায় নতুন নতুন জাতের ধান উদ্ভাবিত হয়েছে।তিনি এইসব জাতের ধান চাষ করতে কৃষকদের আহ্বান জানান।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




