ছবি: নিজস্ব
বিশ্বনাথে খোঁড়াখুঁড়ির পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও পাকা হয়নি মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক। টেন্ডারের পর কিছু বালু আর কংক্রিট ফেলে উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিভাবকহীন এই সড়কটি পাকা হতে আর কত বছর লাগবে- এমন প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে। একটু বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে পানি জমে যাতায়াতে চরম কষ্টে পড়েন লোকজন।
বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের রাজাগঞ্জ বাজার টু উত্তর বিশ্বনাথ দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয় ভায়া খাজাঞ্চিগাঁও-লামাকাজী সংযোগ সড়কের পাকাকরণ কাজের টেন্ডার পায় বিএম ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৯ সালের ৪ ডিসেম্বর পাওয়া টেন্ডারের কাজ ১ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ শেষে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর খোঁড়াখুঁড়ি করে কিছু অংশে বালু, কংক্রিট ফেলার পর কাজের মান নিয়ে এলাকার সচেতন মহলের অনেকে আপত্তি জানান। আপত্তির প্রেক্ষিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করে চলে যায়। এরপর রি-টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি সমাপ্তের আশ্বাস মেলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে। কিন্তু ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী।
জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজ সম্পন্ন না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হওয়ার পেছনে কী কারণ তা জানার চেষ্টা করলে বিএম ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী আমিরুল ইসলাম বাবুল বলেন, প্রায় দুই বছর আগে আমি কাজটি ছেড়ে দিয়েছি। লস দিয়ে কাজ করতে পারব না।
দীর্ঘদিন ধরে কাজ সমাপ্ত না করায় এলাকাবাসীর মনে বিরাজ করছে ক্ষোভ, বাড়ছে হতাশা। সড়কটি দ্রুত পাকাপোক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কান্দিগ্রামের বাসিন্দা সিরাজ মিয়া, জামাল উদ্দিন, ফারুক মিয়া ও ফিরোজ আলী জানান, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কাজ বন্ধ, ঠিকাদার রাস্তার কিছু অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করে বালু, কংক্রিট ফেলে উধাও হয়ে গেছে। বর্ষায় হাঁটুসম পানি জমে চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। দ্রæত সড়কটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
বিশ্বনাথ উপজেলাড় প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ জানান, এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। আগের ঠিকাদারের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দ এলে এই রাস্তাটি নতুন করে পাকাকরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




