ছবি: নিজস্ব
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বালাগঞ্জ-খসরুপুর-শেরপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কের বালাগঞ্জ অংশের ফাযিলপুর নামক স্থানটিতে ব্যাপক ভাঙনে সড়ক ও কালভার্ট কুশিয়ারা নদীর গর্ভে চলে গেছে। সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের জনসাধারণ যাতায়াতে চরম বিপাকে পড়েছেন। রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে নদীভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জিও ব্যাগ ও বøক ফেলার প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে গত কয়েকদিন আগে শুধু মাটি ও পলিব্যাগ দিয়ে ভাঙনের অংশ ভরাট করে দেওয়া হয়। কালভার্ট ও সড়ক রক্ষায় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কয়েক দফায় সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার সিলেটের উপ-পরিচালক সুবর্ণা সরকার স্থানটি পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষমেশ রক্ষা হলো না রাস্তা ও কালভার্ট।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি ব্যবহার করে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ উপজেলা ও জেলা সদর এবং বিভিন্ন হাট-বাজারে চলাচল করে থাকেন। ব্যবসায়ীরা উপজেলা সদরের বালাগঞ্জ বাজার থেকে মালামাল পরিবহন করে থাকেন। এখন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় অনেক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন। সড়কপথে চলাচল করতে না পেরে অনেকে বিকল্প পথ না থাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিপদে পড়েছেন। এ অবস্থায় ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান চাইছেন এলাকাবাসী। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বড় প্রকল্প হাতে নেয়ার আহŸান জানিয়েছেন তারা।
পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন জানান, ভাঙন শুরু হলে তা প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জিও ব্যাগ ও বøক ফেলার আবেদন করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কাজের আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু জিও ব্যাগ ও বøক না ফেলার কারণে রাস্তাটি রক্ষা করা যায়নি। মঙ্গলবার রাতে আবার হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ট্রেনিংয়ে থাকায় বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ও উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হলে তারা বুধবার পরিদর্শন করে গেছেন। এসময় তাদেরকে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করার কথা বলেছি। এছাড়া আশপাশের মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের হামসাপুর গ্রামসহ অন্যান্য এলাকায় বাড়িঘর ও ফসলের মাঠ প্রতিবছরই কুশিয়ারায় হারিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভ‚মি (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী মুহিবুল্লাহকে সাথে নিয়ে পরিদর্শন করে এসেছি এবং যানবাহন ও মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করতে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
জৈন্তাবার্তা / রহমান




