গত বুধবার বিকেলে সিলেট নগরীর মেজরটিলা এলাকায় দেড় মাস বয়সী এক শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় শিশুটির বাবাকেও অর্ধেক গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে।
এ ঘটনার দুইদিনের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করার দাবি জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটিকে খুন করেছেন তার বাবা নিজেই। বাথরুমে নিয়ে বটি দিয়ে গলা কেটে তাকে খুন করে তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
নিহত শিশুটির নাম ইনায়া রহমান। তার বাবার নাম আতিকুর রহমান (৪০)। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে।
জানা গেছে, ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত ছিলেন ইনায়ার মা ঝুমা বেগম। তাঁর দেয়া তথ্য ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাওয়া অন্যান্য প্রমাণ বিশ্লেষণে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, ইনায়ার বাবা নিজে তাকে বাথরুমে নিয়ে যান এবং ধারালো বটি দিয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আতিকুর।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুর রহমান দাবি করেছেন, তিনি কিছুক্ষণের জন্য নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। তার দাবি, “মাথাব্যথার কারণে হঠাৎ মাথায় কী যেন হয়ে গিয়েছিল, বুঝতেই পারিনি।”
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম বলেন, বুধবার দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বাসায় এসে খাবার খেয়ে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন আতিকুর। হঠাৎ করে শিশুসন্তান কান্না করায় ক্ষেপে গিয়ে তাকে বাথরুমে নিয়ে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তিনি। পরে তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে নিজের গলা কাটতে না পেরে স্ত্রীকে ঘুম থেকে তুলে চিৎকার শুরু করেন। স্থানীয়রা শিশু ও আতিককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




