সিলেটে মঙ্গলবার থেকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বন্ধ থাকবে যান চলাচল
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ০৪:০১ AM

সিলেটে মঙ্গলবার থেকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বন্ধ থাকবে যান চলাচল

মুহাজিরুল ইসলাম রাহাত, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭/০৭/২০২৫ ০৯:১১:০৫ PM

সিলেটে মঙ্গলবার থেকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি, বন্ধ থাকবে যান চলাচল

ছবি: নিজস্ব


পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সিলেটে পারিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতি এবং সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচী ঘোষণা করে। কর্মবিরতির ফলে মঙ্গলবার থেকে সিলেটে গণপরিবহনসহ কোন যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।

এর আগে গতকাল রোববার প্রশাসনকে দাবি পুরণে স্মারকলিপি দিয়ে মঙ্গলবার থেকে সিলেটে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। তবে গতকাল রোববার রাতে এক সভায় সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি লোকমান আহমদ ধর্মঘট প্রত্যাখান করে বাস চলবে বলে ঘোষণা দেন। ফলে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি নিয়ে দ্বিদ্বা-বিভক্তি দেখা দেয়।

পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-

১. সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান ২৫ বছর, সিএনজি ও ইমা লেগুনা এর ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞপন বাতিল করতে হবে।

২. সিলেটের সকল পাথর কোয়ারীর ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারী খুলে দিতে হবে।

৩. বিআরটিএ কর্তৃক সকল গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণ পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের উপর আরোপিত বার্ধিত টেক্স প্রত্যাহার করতে হবে।

৪. সিলেটের সকল ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন বন্ধ, বিদ্যুৎ মিটার ফেরত ও ভাংচুরকৃত মিলের ক্ষতি পূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর ও বালুর ক্ষতি পূরণ দিতে হবে।

৫. সড়কে বালু ও পাথরবাহী গাড়িসহ সকল ধরনের পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানী বন্ধ করতে হবে এবং সিলেটের পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে অবিলম্বে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ময়নুল হক বলেন, ‘লোকমান আহমদ কে? তাকে আমরা চিনি না। তার কোনো গাড়ি নেই, তিনি মালিক সমিতির নেতাও নন। তিনি কর্মসূচিতে আছেন কি-না, তাতে কিছু যায় আসে না। ’

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে সিলেটের সব পাথর কোয়ারি বন্ধ। এতে পাথর সংশ্লিষ্ট সকলে চরম দুর্ভোগে আছে। সরকার পাথর লুটপাট বন্ধ করতে না পারলেও বৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পরিবহন করতে দিচ্ছে না।’

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার