সংগৃহিত
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি সিলেট। যে অঞ্চলটি সবার কাছে প্রকৃতি কন্যা হিসেবে পরিচিত। ছোট বড় টিলার বুক জুড়ে সবুজ চা বাগানের মনোরম দৃশ্য যে কোন অঞ্চল থেকে সব সময় সৌন্দর্য্যে এগিয়ে রেখেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশাসনের বাস্তবতার নিরিখে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে টিলা ধসে মৃত্যুর ঘটনা দিনে দিনে বাড়ছেই।
টিলা ধসে এখন পর্যন্ত অনেক মানুষ মৃত্যু বরণ করেছেন। দিন যায় দিন আসে কিন্তু সুরহা হয়না ভয়াবহ এই সমস্যার। অতিবৃষ্টির কারণে প্রায়সময় টিলা ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সিলেট জেলার বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন অনেক অসহায় লোকজন। দীর্ঘদিন ধরে এসব টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করলেও এসব দৃশ্য যেন কিছুতেই নজরে পড়েনা দায়িত্বশীলদের কারও। বরং দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলেও যেন টনক নড়ে না তাদের। সিলেট জেলায় বিগত ১০ বছরে প্রায় অর্ধশতাধিকের মত মানুষ টিলা ধসে মারা যান।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেট সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন উপজেলায় যথা: সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট বিয়ানীবাজার কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিদ্যমান পাহাড়/টিলা কর্তন রোধে ২০১১ সালে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (নং-৫৭৫০/২০১১) দায়ের করে। মামলার চূড়ান্ত শুনানী শেষে ২০১২ সালের ১লা মার্চ পাথড় টিলা কর্তন থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ও যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে পাহাড়/টিলা কর্তনের সহিত জড়িতদের শাস্তি প্রদান, পাহাড়ে বিদ্যমান দখলদার উচ্ছেদ, এবং পুণরায় অবশিষ্ট পাহাড়/টিলা কর্তনরোষ এবং পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন। সেই সাথে শাস্তি প্রদানের পূর্বে আইন অনুযায়ী।
উল্লেখিত এলাকার স্থানীয় জনসাধারণের স্বার্থ জীবন ও সম্পদেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া যায় তার ঠিক উল্টো চিত্র। শুধুমাত্র দুর্ঘটনায় কারও মৃত্যু ঘটলে প্রশাসনের দায়িত্বরতদের ঘুম ভাঙ্গে। অন্যথায় সারা বছর তাদের কে আরও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না।
প্রশাসনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারনে টিলার পাদদেশে ঝুঁকি নিয়েই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে যাচ্ছেন মানুষজন।
টিলার পাদদেশে বসবাসকারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বসবাসের কোন জায়গা নাই। তাই সবকিছু যেনে শুনে ঝুঁকি নিয়ে টিলার পাদদেশে ঘর বেধে জীবনযাপন করছি। সরকার যদি আমাদের বসবাসের জায়গা ব্যবস্থা করে দিতেন। তবে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। দূর হবে অজানা আতঙ্ক ও মৃত্যুর ভয়।
উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও সিলেটে টিলার পাদদেশে ঠিক কতটি পরিবার বা জনসংখ্যা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে তার নেই কোন নির্দিষ্ট তালিকা। বরং অনুমান ভিত্তিক তালিকা দিয়েই চলে তাদের কার্যক্রম। জেলা প্রশাসনের কাছেও নেই এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোন তথা।
জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, সিলেট জেলায় মোট ৩৮৫ টি পরিবার টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটে ২৭৯টি পাহাড়-টিলার মধ্যে ১৬৯টি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এরমধ্যে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকায় ৫টিলার পাদদেশে ৭টি পরিবার, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৭১টি টিলা মেষে ৮৮টি পরিবার, বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৯টি টিলায় ৯টি পরিবার, কানাইঘাট উপজেলায় ১টি টিলায় ৩টি পরিবার, কানাইঘাট উপজেলার মোট ৭৫টি টিলার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১টি টিলায় ৩টি পরিবার বসবাস করছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের ১২টি টিলায় ৩৮টি পরিবার বসবাস করছে। বিশ্বনাথ উপজেলার ১টি টিলায় ৬টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন, সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগরে ২৫টি টিলায় মোট ৭০টি পরিবার খাদিমপাড়ায় ১৫টি টিলায় মোট ৩৯টি পরিবার, টুকেরবাজার ২০টি টিলায় ১২৫টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। কানাইঘাট উপজেলার মোট ৭৫টি টিলার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১টি টিলায় ৩টি
পরিবার বসবাস করছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের ১২টি টিলায় ৩৮টি পরিবার বসবাস করছে বিশ্বনাথ উপজেলার ১টি টিলায় ৬টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন, সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগরে ২৫টি টিলায় মোট ৭০টি পরিবার, খাদিমপাড়ায় ১৫টি টিলায় মোট ৩৯টি পরিবার, টুকেরবাজার ২০টি টিলায় ১২৫টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। অবশ্য সিলেটের জকিগঞ্জে ৯টি টিলা, গোয়াইনঘাটের পূর্ব জাফলংয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১টি টিলাসহ মোট ২৭টি টিলা রয়েছে। এগুলোতে জনবসতি নেই বলেও জানা গেছে।
আশ্চর্য্যরে কথা হলো এই যে, সিলেট নগরী এবং জৈন্তাপুর উপজেলার বিভি-ন্ন ঝুঁকিপূর্ণ টিলায় বসবাস কারিদের কোন তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি। অথচ সিলেট জেলা পরিবেশ অধিদপারের তথ্যসূত্র অনুসারে জৈন্তাপুর উপজেলার ৫৫টি টিলার মধ্যে ২৫ টি টিলায় ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। যেখানে নিজপাট গ্রামে ১২টি, চারিকাঠিতে ১৩ টি, ফতেহপুরে ২৫ টি ছাড়াও চিকনাগুল এলাকায় আরও ২৬ টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা রয়েছে। এছাড়াও মহনগরের ৩৫, ৩৬ নং ওয়ার্ড, খাদিম পাড়া, টুকের বাজারের আংশিক সহ আরো ১২৩ টি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার রয়েছে। চেয়ারম্যানেরর টিলায় ২২টি পরিবার, টিলারগাঁও মোট ১০টি পরিবার, জোনাকি ২৫ টি পরিবার বালুচর ১০টি পরিবার এবং আলইসলাহ ২১ টি পরিবার রয়েছে। এছাড়াও নগর ও তার বাহিওে তালিকায় যুক্ত হয়নি এরকম আরো কয়েক'শ পরিবারের সন্ধান পেয়েছে শ্যামল সিলেটের অনুসন্ধান। এভাবে কয়েকশ পরিবার দিনের পর দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে টিলার পাদদেশে বসবাস করছে। যাদের কে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার কোন উদ্যোগ নেই জেলা প্রশাসনের। কিন্তু অঘটন ঘটলেই কেবল সতর্কতার হাকডাক পড়ে যায়। চিত্র দেখা গেছে বিগত কয়েক টি দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর পর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১০ বছরে সিলেট বিভাগে টিলার মাটি ধসে অন্ততঃ অর্ধশতাধিকের বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাগুলোর জন্য টিলা পাহাড় কর্তনকেই মূলতঃ দায়ী করছেন পরিবেশবাদী ও বিশেষজ্ঞরা। এরপরও সিলেটে কিছুতেই বন্ধ হয় না পাহাড়-টিলা কাটা। সর্বশেষ এ বছর ১ জুন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভারী বৃষ্টিতে টিলা ধসে পড়ে এক পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। বাড়ির মালিক রিয়াজ উদ্দিন (৫০), তার স্ত্রী রহিমা বেগম, তাদের সন্তান সামিয়া খাতুন (১৫), ও আব্বাসউদ্দীন (১৩)। গতবছরের ১০ জুন সিলেট মহানগরীর মেজরটিলার চামেলীভাগ আবাসিক এলাকায় টিলা টিলা খসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। এতে আহত হন আরও তিনজন। নিহতরা হলেন-আগা করিম উদ্দিন (৩১), তার স্ত্রী শাম্মী আক্তার রুজি (২৫) ও তাদের শিশু সন্তান নাফজি তানিম। একই স্থানে টিল্য ধসে ১৯৯৭
সালে প্রাণ হারিয়েছিলেন হুনদা নামের এক যুবক। ২০২২ সালের ৬ জুন জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুলের চারিকাটি গ্রামে টিলা ধসে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু ঘটে। নিহতরা হলেন আবদুল করিমের ছেলে জুবায়ের আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী মোছা, সুমি বেগম (৩০) জুবায়ের আহমদেও ছেলে সাফি আহমদ (৫) এবং জুবায়ের আহমদেও ভাই মাওলানা রফিক আহমদেও স্ত্রী মোছা. শামীমা বেগম (৪৮)।
সিলেটে কি পরিমাণ লোকজন পাহাড়-টিলার পাদদেশে বসবাস করেন, সরকারিভাবে এর কোনো তালিকা নেই। যদিও পাহাড়। টিলা সংক্রান্ত এসব দায়িত্ব ভূমি মন্ত্রনালয়ের উপর ন্যাস্ত রয়েছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে কোন পক্ষকে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায় না। পালন করতে দেখা যায় না।
জানা গেছে, প্রভাবশালীচক্র টিলা কাটা বা দখলে রাখার জন্য টিলার পাদদেশে ঘর বাড়ি বানিয়ে ভূমিহীনদের কম ভাড়ায় রণে কম ভাড়া পেয়ে খুশিতে মৃত্যুকূপে বসবাস করেন অনেক পরিবার। পাশাপাশি টিলা কেটে ঘরবাড়ি নির্মাণ ও শ্রেনী পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। টানা বৃষ্টি হলেই সিলেটে পাহাড়-টিলাযসের খবর পাওয়া যায়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়-টিলার পাদদেশে কয়েকশ পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করলেও তাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ আজে পরিলক্ষিত হয়নি। সিলেটে প্রতি বছর ভারী বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন টিলা-পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যায় এবং মাটি ধসে ছোট-বড় নান দুর্ঘটনা ঘটে মাঝেমধ্যে বড় ধরনের ট্র্যাজেডির সৃষ্টি হয়।
এদিকে, প্রতি বর্ষা মৌসুমে সিলেট জেলায় টিলা-পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও এগুলোর পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেন মানুষজন। ফলে প্রতি বছরই সিলেটে ঘটে টিলা বা পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনা। মহানগরীসহ সিলেট জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহান টিলায় কয়েক বছর আগেও মানুষের তেমন আনাগোনা ছিলোনা কিন্তু এখন এই সকল সেসব এলাকায় গড়ে উঠেছে ঘনবসতি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেট নগরীর হাওলাদারপাড়া আখালিয়া পীরমহল্লা ব্রাহ্মণশাসন জাহাঙ্গীরনগর, তারাপুর চা বাগান নগরীর উপকন্ঠের বালুচর, বিমানবার সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর জোনাকী, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড় এলাকায় বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কয়েক শ' পরিবার।
এছাড়া জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে কয়েক হাজার মানুষজন।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, যারা ঝুঁকি নিয়ে টিলায় বসবাস করেন তাদের আমরা অনুরোম জানিয়েছি যে তারা যেন সেখান থেকে নিরাপদে সরে যান। কিন্তু বেশির ভাগ বাক্তিমালিকানা থাকায় সাময়িক সময়ের জন্য ত সরলেও, স্থায়ী ভাবে কেউ সরতে চাননা। তবে কতটি পরিবার টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে তাদের সঠিক তথ জানাতে পারেন নি। জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ টিলা
ও বসবাসকারীদেও কোন তথ্য তাদের কাছে নে এবং টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী কোন পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়নি। নিরাপদে সরিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকত সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা মুন্না বলেন, আমাদের কাছে নির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই কতটি ঝুঁকিপূ টিলা বা বসবাসকারী পরিবার রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বুঝে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থ্য করি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট অফিসের সহকারি পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, অবৈধভাবে টিলা কর্তনকারীদেও বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা ও এর পাদদেশে বসবাসকারীদের সংখ্যা নিরুপণে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আশাকরি মাস দুয়েকের মধ্যে তা সম্পন্ন করতে পারবো। জেলা প্রশাসনের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বর্তমানে জেলায় মোট ১৫৮৯ জন অবৈধ দখলদার রযেছেন। যারা সরকারি বিভিন্ন টিলা দখল করে রেখেছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও এসিল্যান্ডের সমন্বয়ে আমাদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ টিলায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ চালিয়ে
যাচ্ছি। যারা যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে তাদের বুঝানো হচ্ছে, পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ টিলাকে সরানোর জন্য আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সিলেটের পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আবদুল করিম কিম বলেন, সিলেটে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হয়। পাহাড় কাটার কৌশল হিসেবে পাহাড়ের পাদদেশে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বসতি বানানো হয়। ঝুঁকি নিয়ে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ বাস করেন বিভিন্ন এলাকায় এসব পাহাড়-টিলার পাদদেশে। দরিদ্র মানুষের বসতি দিয়ে আড়াল রেখে টিলাখেকোরা নির্বিচারে টিলাবিনাশ করে। সমস্যা দেখা দেয় অতি বর্ষণে পাহাড় বা টিলা ধ্বসের ঘটনায়। এসব ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ঘটলে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়। অথচ প্রশাসনের নিত্য নজরদারির প্রয়োজন ছিল।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্ট কমিশনের সভাপতি ফয়ছল আহমদ বাবলু বলেন, প্রশাসনের উচিৎ দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণদের তালিকা তৈরি করে তাদের কে নিরাপদ স্থানের ব্যবস্থা করা। কারন একজন মানুষের বিকল্প বসবাস করার স্থান না থাকলেতো যতই ঝুঁকিপূর্ণ হোক সে টিলার বাসস্থান ছেড়ে কখনো অন্যত্র সরবে না।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




