ছবি:সংগৃহীত
মৌলভীবাজার–১ সংসদীয় আসনটি বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী বড়লেখা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৬ জন এবং জুড়ী উপজেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৭২০ জন। দুই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা (নারী-পুরুষ) ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন। বড়লেখা উপজেলায় রয়েছে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং জুড়ী উপজেলায় রয়েছে ৬টি ইউনিয়ন। এই আসনে সংখ্যালঘু ভোটার (চা শ্রমিকসহ) প্রায় ৮০ হাজার বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। ভোটারদের মতে, এবার মৌলভীবাজার–১ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর পাশাপাশি আঞ্জুমানে আলইসলাহ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ, সামাজিক অনুষ্ঠান ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও স্বতন্ত্র ও জামায়াত প্রার্থীর পক্ষ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে প্রকাশ্যে মত প্রকাশ করছেন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটার। বাকি প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটার এখনো নীরব অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে নতুন ভোটার, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোট এ আসনে বিজয়ের নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে নীরব ভোটারদের সমর্থন পেতে বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ সব প্রার্থীই নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়নের আশ্বাস দিচ্ছেন।
সীমান্তঘেঁষা এ আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের অঘোষিত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন ৮ বার। বাকি চারটি নির্বাচনে বিএনপি দুইবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার জয় লাভ করে।
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এই ভোটব্যাংককে লক্ষ্য করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ (ধানের শীষ), আঞ্জুমানে আলইসলাহ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমেদ (কাপ-পিরিচ), জামায়াতের মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন (লাঙ্গল) এবং গণফ্রন্টের মো. শরিফুল ইসলাম (মাছ)। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আব্দুন নুর তালুকদার বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সংখ্যালঘু, চা শ্রমিক ও আদিবাসী ভোটারদের বড় একটি অংশ ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নৌকা প্রতীকের পক্ষে গেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এই ভোটব্যাংকের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নিজস্ব আরও প্রায় ৬০ হাজার ভোট রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি বড় অংশ ত্রিমুখী লড়াইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুফতি বেলাল আহমেদের প্রতি আস্থাশীল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ আগের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত হওয়ায় এবার বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভালো ফলের প্রত্যাশা করছেন।
এ অঞ্চলের সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, এবার দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে এমন একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, যিনি কথার ফুলঝুরি নয়-বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন। বিশেষ করে ঘুস-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নকে ভোটাররা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




