সাদাপাথর-বিছনাকান্দি-জাফলং এক সড়কে, সিলেটে হচ্ছে ‘ড্রিম ট্যুরিস্ট রুট’
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১১:২৪ PM

সাদাপাথর-বিছনাকান্দি-জাফলং এক সড়কে, সিলেটে হচ্ছে ‘ড্রিম ট্যুরিস্ট রুট’

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/০৬/২০২৬ ০৯:০১:৩৫ PM

সাদাপাথর-বিছনাকান্দি-জাফলং এক সড়কে, সিলেটে হচ্ছে ‘ড্রিম ট্যুরিস্ট রুট’

এআই দিয়ে করা


পর্যটকদের ভোগান্তি ও যাতায়াত ব্যয় কমাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় তিন পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলংকে একই সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলে সীমান্তঘেঁষা পাহাড়, নদী, চা-বাগান ও পাথুরে জলধারার পাশ দিয়ে গড়ে উঠবে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন রুট। নতুন এই সড়ক চালু হলে সিলেট শহর ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি না দিয়েই সরাসরি সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলং ভ্রমণের সুযোগ পাবেন পর্যটকরা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ও বিছনাকান্দির মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া রাধানগর থেকে জাফলং পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে আরও ১৩ কিলোমিটার সড়ক। পুরো রুটে নির্মাণ করা হবে চারটি সেতু।

এ বিষয়ে এলজিইডি সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, ‘আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এই সড়কের প্রধান আকর্ষণ হবে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ভারতীয় মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই পথে দেখা মিলবে পাহাড়ের সারি, পিয়াইন ও ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলধারা এবং সবুজে ঘেরা গ্রামীণ জনপদের অপরূপ দৃশ্য।

এই রুটে চলাচলের সময় পর্যটকরা উপভোগ করতে পারবেন সাদাপাথরের সাদা পাথরে মোড়া নদী, বিছনাকান্দির পাথুরে জলপ্রবাহ এবং জাফলংয়ের ডাউকি নদীর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঝরনা, মেঘ আর প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধনে সড়কটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন রুটে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, স্থানীয় বাজার ও যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন হবে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিলেটের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ