ছবি : সংগৃহীত
যেখান থেকে শুরু, সেখানে এসেই শেষ। আজ থেকে ঠিক ১৬ বছর আগে, ২০১০ সালে যেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তরুণ নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছরের বর্ণিল ও উত্থান-পতনময় ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিও খেললেন সেই একই মাঠে।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে চিরতরে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র।
ফুটবলের এই দুঃখি রাজিপুত্রের আর রাজা হওয়া হলো না। বিধাতা দুই হাত ভরে প্রতিভা দিলেও ভাগ্য যেনো সঙ্গে ছিলো না তার। অনেক কিছু করতে চেয়েও করতে না পারার কষ্টে অশ্রুশিক্তভাবে ভক্তদের অভিবাদন জানালেন ব্রজিলের এই মহাতারকা।
সোমবার শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অপ্রত্যাশিত এই হারের পরপরই জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিজেই জানান নেইমার।
জাতীয় দলের হয়ে তার দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি টানার ঘোষণা দিয়ে নেইমার বলেন, "আমি চেষ্টা করেছি, আমি অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন সব শেষ। এখানেই শুরু করেছিলাম এবং এখানেই শেষ করলাম।"
অসংখ্য রেকর্ড ও অর্জনে ঠাসা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটল। কেবল আক্ষেপ হয়ে রয়ে গেল একটি বিশ্বকাপ ট্রফির।
চলতি বিশ্বকাপে মাঠের সময়টা মোটেও সুখকর ছিল না নেইমারের। চোট ও নানা সমীকরণে পুরো টুর্নামেন্টে সব মিলিয়ে মাত্র ৩৭ মিনিট মাঠে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।
নরওয়ের বিপক্ষেও ম্যাচের ৬৭ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+১০ মিনিটে) পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের সান্ত্বনাসূচক একমাত্র গোলটি আসে তার পা থেকেই।
তবে এই গোল যেমন দলের পরাজয় ও বিদায় আটকাতে পারেনি, তেমনি সেলেসাও জার্সিতে এটিই যে তার ক্যারিয়ারের শেষ কিক হতে যাচ্ছে— তা হয়তো ম্যাচ চলাকালীন অনুসারীদেরও ভাবনায় ছিল না।
বিশ্ব ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল সেলেসাওদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ডের আকস্মিক প্রস্থানে।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




