ছবি:সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের নয়টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিকল্পিত নগরায়ণ, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী সিলেটের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কয়েকটি মেগা প্রকল্পের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারকেন্দ্রিক সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আধুনিক ‘প্রবাসী পল্লী’ নির্মাণের প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য।
কয়েস লোদী বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য ভক্ত, পর্যটক ও দর্শনার্থী এখানে আসেন। তাই ধর্মীয় ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে মাজার এলাকার উন্নয়ন সময়ের দাবি।
তিনি প্রস্তাবনায় মাজার এলাকায় একটি আধুনিক মসজিদ, ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার জন্য মাদ্রাসা, দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত আবাসন ব্যবস্থা, বহুতল ভবন, প্রশস্ত পার্কিং, অজুখানা, স্যানিটেশনসহ প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও নাগরিক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এ ছাড়া সিলেটে একটি আধুনিক ‘প্রবাসী পল্লী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসন, নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ও নকশা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুর আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. সামসুজ্জামান সামু, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব।
বৈঠক শেষে চেয়ারম্যানরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




