সিলেটের উন্নয়নে ২৫ দফা দাবি সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরামের
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

সিলেটের উন্নয়নে ২৫ দফা দাবি সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরামের

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/১১/২০২৬ ০৯:১৮:১০ অপরাহ্ন

সিলেটের উন্নয়নে ২৫ দফা দাবি সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরামের

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট বিভাগের দীর্ঘদিনের উন্নয়নবৈষম্য নিরসন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ২৫ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি পেশ করেছে সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর দরগা গেট এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভীর কাছে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করেন।

এ সময় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমসহ জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের অর্থনীতি, প্রবাসী আয় ও জাতীয় উন্নয়নে সিলেট বিভাগ সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চল উন্নয়নবৈষম্য ও অবহেলার শিকার। সিলেটের অধিবাসী, প্রবাসী ও পর্যটকদের সুবিধা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে ২৫টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে প্রথম শ্রেণির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা এবং সেখান থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে দেশি-বিদেশি যাত্রী ও কার্গো বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু; সিলেট-আখাউড়া রেলপথ ব্রডগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন এবং সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীন আধুনিক ট্রেন চালু করা।

এ ছাড়া সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা, বড়লেখার সাবাজপুর থেকে জুড়ী, কুলাউড়া, রবিরবাজার, শমশেরনগর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং সুনামগঞ্জ-সিলেট-নেত্রকোনা-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়ক চার লেনে রূপান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। কুলাউড়া-বড়লেখা-সাবাজপুর রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালুর দাবিও রয়েছে।

স্মারকলিপিতে মৌলভীবাজারের শমশেরনগর বিমানবন্দর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালু, সেখানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি এবং অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সুরমা অথবা কুশিয়ারা নদীর পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে সিলেটে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলভীবাজারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ, জালালাবাদ সেনানিবাসে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ এবং সিলেটে একটি গার্লস ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে।

বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে সিলেটে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সিলেট মহানগরীকে ‘বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ এবং সিলেট বিভাগকে ‘পর্যটন অঞ্চল’ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের দাবিও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিল্প ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সিলেট বিভাগের গ্যাস ও তেলক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাস-তেল উত্তোলন ও বিতরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সিলেটে আধুনিক তেল সংরক্ষণ ও শোধনাগার এবং গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে পৃথক চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পপার্ক ও পর্যটনপার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদের উন্নয়ন এবং অকালবন্যা প্রতিরোধে সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, জুড়ী, কালনী, চেঙ্গেরখাল ও পিয়াইনসহ বিভাগের ছোট-বড় নদ-নদী খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়ানোর দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে বিভাগের জেলা সদর, উপজেলা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংযোগ সড়ক মেরামত, সংস্কার, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সিলেটি নাগরী অক্ষরকে আঞ্চলিক লিপি এবং নাগরী ভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ পুলিশ, বন রক্ষায় বন পুলিশ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষায়িত দুর্যোগ প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নন-গেজেটেড কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় বা নিজ জেলার অধিবাসীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে বিধিবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবিও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে ফোরামের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার সিলেট বিভাগের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে দীর্ঘদিনের এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ