সংগৃহিত
সৌদি আরবের দাম্মামে নির্মাণাধীন ভবনে দুর্ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন (২২) নামে সিলেটের জৈন্তাপুরের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অসাবধানতাবশত লিফট স্থাপনের জন্য রাখা গর্ত দিয়ে ১১ তলা থেকে নিচে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত দেলোয়ার হোসেন জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আবদুস শুক্কুর।
নিহতের মামা আমির হোসেন জানান, দেলোয়ার হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় নয় মাস আগে বৈধ ভিসায় সৌদি আরবে যান তিনি। এর আগে দেশে শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখান থেকে কিছু টাকা জমিয়ে এবং ঋণ করে বিদেশ যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে এখনো তাঁর নেওয়া ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়নি।
আমির হোসেন আরও জানান, দেলোয়ার ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থানরত জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়া গ্রামের প্রবাসী আবদুল করিম মুঠোফোনে জানান, দেলোয়ারের মরদেহ দাম্মামের কাতিব জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বাদ আসরের দিকে দেলোয়ারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লক্ষ্মীপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আলমগীর হোসেন বলেন, “দেলোয়ারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হতদরিদ্র পরিবারের ছেলেটি উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো।”
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এলাকাবাসীরও দাবি, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় দ্রুত দেলোয়ারের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
দেলোয়ারের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




